“ক্যানভাসের সামনে দাঁড়ালে আমার মনে হয়, এমন একটি জায়গা সেখানে আমি সম্পূর্ণ স্বাধীন ।”
ত্রিপুরার উজ্জ্বল চিত্রশিল্পীদের জয়দীপ ভট্টাচার্য অন্যতম । নিজের চিত্র-সত্তায় ভর করে জয় করেছেন গুণীজনের প্রশংসা । তাঁর সাথে একান্ত আলোচনায় তমালশেখর দে ।
প্রশ্ন ঃ একটি সাদা ক্যানভাস বা চিত্রপটের সামনে দাঁড়ালে আপনি ঠিক কী অনুভব করেন ? ঠিক কখন একটি ছবি আঁকতে বাধ্য হয়ে পড়েন ?
প্রশ্ন ঃ আর মনোজগতের
অবস্থানগত দিক থেকে যদি জিজ্ঞেস করি, তাহলে তখন ঠিক কী অনুভব করে থাকেন ? মনের
পরিমণ্ডলটা তখন কেমন থাকে -
উত্তর ঃ এর উত্তরে, অবশ্যই বলবো, একটি সাদা বা ব্ল্যাক ক্যানভাসের সামনে দাঁড়ালে আমার মনে হয়, এমন একটি জায়গা সেখানে আমি সম্পূর্ণ স্বাধীন । যেখানে আমাকে বাধা দেবার মতো কেউ নেই। যেখানে আমি আমাকে ব্যক্ত করতে পারি, সেখানে আমার কোন ক্লান্তি নেই । এক কথায় আমি আমাকে সবচেয়ে বেশি এক্সপ্রেস করতে পারি সেই শূন্য ক্যানভাসে রঙ ও রেখার মাধ্যমে। আর আমার তখনই ইচ্ছা হয় সেই সাদা ক্যানভাসে নিজের ভাবনা-চিন্তাকে নিজের প্রাপ্তি না-প্রাপ্তিকে ফুটিয়ে তুলতে। আনন্দ থেকে যন্ত্রণাটাই হয়ত আমাকে খুব অনুপ্রেরণা যোগায় চিত্রপটকে রাঙিয়ে তুলতে।আমার ফর্ম, আমার লাইন, আমার রঙ – তারা যেন আমার সাথে মিলে মিশে যায় এক ক্যানভাসে ।
প্রশ্ন ঃ আপনার ছবিতে
নিজস্ব একটা স্টাইল দেখা যায় । এই স্টাইল বা ড্রয়িং-এর প্রতি আপনার ভালবাসা বা
টার্নিং পয়েন্ট নিয়ে আমাদের কিছু বলুন ?
প্রশ্ন ঃ আপনার চিত্রকর্মে লোকশিল্পকে নতুন একটা আঙ্গিক
নিয়ে উপস্থাপিত হতে দেখা যায় । এই লোক-ফ্লেবার-টা
নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত ভাবনা-চিন্তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইছি ?
উত্তর ঃ ফোক নিয়ে বললে বলবো, হ্যাঁ, ফোক বা পারস্পারিক ধারার যেসব কাজ ভারত জুড়ে হয় সেগুলো আমাকে অনেক ভিতর থেকে টানে । তাদের সরল ভাবে উপস্থাপন , লাইন, কালার, ফর্ম যাতে শুধু নিজস্বতা রয়েছে সেই ফোক আর্টে আমাকে খুব অনুপ্রেরণা দেয় । এবং সাথে সাথে তাদের চাইল্ড আর্টও আমাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে । যেহেতু আমি বহুবছর ধরে আমি বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করেছি, তাদের নিষ্পাপ উপস্থাপন, রঙ, রেখা আমাকে সব সময় আকৃষ্ট করে । আমি নিজেও সেইভাবে অনুভব করার চেষ্টা করি । একটা শিশু মনকে আমি আমার নিজের ভিতরে বয়সের আড়ালেই পুষে রাখি । বলতে পারেন, ফোক আর্ট ইন্সপায়ার করলেও বেসিক্যালি আই অ্যাম এ ট্রেইন্ড আর্টিস্ট । আমার কাজের অ্যাপ্রোচ্ও তাই পোস্ট মর্ডান । আঙ্গিক বা শৈলীতে ফোক বা লোক আদল দেখা গেলেও আমার ছবিতে বাস্তবতার ও কাল্পনিকতার প্রকাশ কিন্তু বিদ্যমান থাকে । আমার জীবন ও আমার চারপাশের ঘটমান পরিস্থিতিও আমাকে ছবি নিয়ে ভাবতে সাহায্য করে । প্রেরণা যোগায় । কখনও ছবির চিত্রপটের চারিদিক আগুনে পোড়া, কখনও বা সমাজের কুটুক্তির বিরুদ্ধে বলা, কখনও বা নিজেকে ব্যক্ত করা, কখনও দেবদেবী ও প্রকৃতির মেলবন্ধন—এইসবও আমার ছবির উপজীব্য বিষয় হয়ে ওঠে । সমাজের সমকামী শ্রেণির মানুষদের যন্ত্রণা-কষ্টও আমাকে নাড়া দিয়েছে নানাভাবে। তাদের সম্পর্কের টানাপড়েন, সামাজিক বিদ্রুপ, তাদের ক্রোধাদির বহিঃপ্রকাশ, আমার ছবির অন্যতম একটা বিষয়বস্তু । ক্যানভাসে রঙ ছাড়াও ব্যতিক্রমী মিডিয়াম যার মধ্যে আমাদের ট্র্যাডিশ্যালের ছোঁয়াও আছে, তাকে নিয়েও আমি কাজ করেছি । তবে হ্যাঁ, ফোক আর্ট ও তার সরল উপস্থাপনা আমাকে সবসময়ই আমার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে । সাথে শিশুরা তো বটেই ।
প্রশ্ন ঃ এই সময়ে
ত্রিপুরা রাজ্যের শিল্পচর্চা নিয়ে আপনার
মূল্যায়ন জানতে চাইছি ?
প্রশ্ন ঃ অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্ট নিয়ে
আপনার ভাবনা জানতে চাইছি । আপনাকে এই ধারায় দেখা যায় না, তত একটা । আপনি কী রিলেট
করেন না, বিমূর্তেরএই ধারায় ?








No comments:
Post a Comment