Thursday, October 3, 2024

“সঙ্গীতে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য আমার কাছে কোন মানে রাখে না। আমার কাছে শুধু সুরই মানে রাখে।”--- শিল্পী শেষাদ্রিভূষণ মালাকার

 




সঙ্গীতে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য আমার কাছে কোন মানে  রাখে না। আমার কাছে শুধু সুরই মানে রাখে।

ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ড-এর উদ্যোগে এবং এশিয়া বুক অফ রেকর্ড-এর কি-বোর্ড ফিঙ্গারিং প্রতিযোগিতায় দেশের সেরা ১০১ জনের মধ্যে সবার সেরা হন কৈলাসহরের তরুণ ডঃ শেষাদ্রিভূষণ মালাকার । ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ইউনিভার্সিটি’ শেষাদ্রি-র হাতে তুলে দেয় সাম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রি ।  তার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে

প্রশ্ন ঃ আপনার ছেলেবেলা নিয়ে আমাদের কিছু বলুন?

উত্তর : ছেলেবেলা আমার মা-র (সাধনা মালাকার)উৎসাহেই গানের জগতে আসা।স্কুলের একটা অনুষ্ঠানে গান গেয়ে ছিলাম ‘বলো বলো সবে শত বীণা বেনু রবে’। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সঙ্গীত কলা কেন্দ্র-এর শিক্ষক অজয় ভট্টাচার্য ।তিনি একাধারে কৈলাসহর কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ছিলেন । তিনি মা’কে ডেকে বললেন, ‘আপনি তাকে গান শেখান ।’ সেই থেকে শুরু ।আমার সঙ্গীত গুরু সজল বিশ্বাস, শুক্লা শর্মা তাদের কাছে একে একে  শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে শুরু করে রবীন্দ্র-নজরুল সঙ্গীত তিনটিই শিখলাম  তাছাড়া হারমোনিয়াম আমি তিন-চার বছর থেকেই বেশ ভালো বাজাতে পারতাম। গড গিফটের মত পুরো করডিং আমার হাতে চলে এসেছিল। কিন্তু তখন পর্যন্ত সিন্থেসাইজার বা কিবোর্ড নিয়ে কোন চিন্তা ভাবনা ছিল না। একবার বাবা(সুভাষ চন্দ্র মালাকার) আমাকে কিবোর্ড টাইপের একটা খেলনা বাজার থেকে এনে দিয়েছিলেনতখন টি.ভি.তে ‘শক্তিমান’ নামে জনপ্রিয় সিরিয়াল ছিল, তার গান আমি প্রথম বাজিয়ে ছিলাম ।তারপর একে একে যে গান ভালো লাগতো তাই শখের বসে ঐ কিবোর্ড খেলনায় তুলতাম, বাজাতাম ।তখন থেকেই মূলত সিরিয়াসলি কিবোর্ড বাজানোর একটা প্রেরণা পাই ।এবং এগিয়ে যাই ক্রমশ           

প্রশ্ন ঃআপনি এই মুহূর্তে ‘কি- বোর্ড ফিঙ্গারিং  উইথ রিদমিক স্টাইল’ প্রতিযোগিতায় দেশ তথা বিশ্বে প্রথম স্থানাধিকারি’- এই গৌরবময় যাত্রা নিয়ে আমাদের কিছু বলুন? কি করে সম্ভব হল এ-অসম্ভব? 

 

উত্তর ঃ বলতে পারো খেলার ছলে  নেশা লেগে গিয়েছিল।তখন আমি চেন্নাইতে  পড়ছি। পিয়ানো শিখতাম, গানের প্রোগ্রামও করতামএকদিন আমার বন্ধু নিলেশ কান্তি পানজা ব্যান্ট পিটার-এর একটা বিডিও এনে দেখালো এবং বললো,‘ তুইও দেখ না চেষ্টা করে।’ সেই চেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে একদিন গুণে দেখা যায় আমার  ফিঙ্গারিং অনেক বেশি ফাস্ট হচ্ছে। তারপর সিরিয়াসলি  সিদ্ধান্ত নিই, এটা নিয়ে কিছু করে দেখাবার । সে-ই জুনুন থেকেই আজকের এই সাফল্য ।২০১৩ সালে চেন্নাই বালাজি হল-এ ‘কি- বোর্ড ফিঙ্গারিং  উইথ রিদমিক স্টাইল’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মিনিটে ৮৬৫টি স্ট্রোক করে সবার সেরা হই। আবার ঐ বছরই ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘দিল্লি ইন্দিরা গান্ধী কলা কেন্দ্র’-এ মিনিটে ৯০০ স্ট্রোক করে নিজের রেকর্ড নিজে ভাঙিরিদমিক স্টাইলে সেকেন্ডে ১৫টা স্ট্রোক হচ্ছে আমার আগে ব্যাঞ্চ পিটারের রেকর্ড ৭৬৫ হিট করেছিল, যার মধ্যে কোন রিদম ছিল না।বারবার একটা ‘কি’এর উপরে হিট করেছিলকিন্তু আমি ষোলো মাত্রার একটি তালের উপর ভিত্তি করে  রেকর্ডটা  হিট করি   

 

প্রশ্ন ঃ আশ্চর্য !কি করে সম্ভব হয় ? আপনার ডক্টরেট ডিগ্রি-টা কি  -বিষয়ের উপরই ?   

উত্তর হ্যাঁ। নিয়ে গবেষণা করার জন্য ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ইউনিভার্সিটি, লন্ডনআমাকে স্কলারশিপ দেয় এর ফলশ্রুতিতে আমার গবেষণাপত্রমোস্ট কি-বোর্ড কি হিটস ইন মিনিট (রিদমিক স্টাইল)জমা দিই। গবেষণার তত্ত্বাবধানে ছিলেন ইউনিভার্সিটি দিল্লি অফিসের হেড অফ ডিপার্টমেন্ট রচনা শর্মা ইউনিভার্সিটি আমার  গবেষণাপত্র পরীক্ষা করে সাম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রি শংসাপত্র এবং মেডেল প্রদান করে । 

প্রশ্ন ঃ কি- বোর্ড তো একটি পাশ্চাত্য যন্ত্র।যার কবলে পড়ে আমাদের অনেক দেশীয় বাদ্যযন্ত্র হারিয়ে যেতে বসেছে। এ’নিয়ে কখনো কিছু ভেবে দেখেছেন ?

উত্তর ঃ সঙ্গীতে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য আমার কাছে কোন মানে  রাখে না। আমার কাছে শুধু সুর-ই মানে রাখে । আমি নিজে  শাস্ত্রীয় এবং রবীন্দ্র শিল্পী। আমার কাছে যেমন হারমোনিয়াম,সেতার,তানপুরা তেমনই গুরুত্ব রাখে কি- বোর্ড। একটি সুরকে ফুটিয়ে তুলতে যে সুরযন্ত্রকে ব্যবহার করলে সুন্দর হবে তবে আমি সেটা অকাতরে ব্যবহার করতে দ্বিধা বোধ করবো না। টেকনোলজি এখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে রয়েছে , তাকে অস্বীকার করে আর কতদিন থাকা যাবে। এর কবলে পড়ে দেশীয় বাদ্যযন্ত্র যে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, তা আমি বলবো না। তবে আমি বলবো ,যে বাঁশি নিয়ে ভালো, সে বাঁশি নিয়ে এগিয়ে যাক ।যে সেতারে ভাল,সে সেতার। আমি  কি-বোর্ড ভালো , তাই আমি কি-বোর্ড নিয়ে এগিয়ে গেছি ।

 

প্রশ্ন ঃ  এই সময় যারা কি-বোর্ড শিখছে ,তাদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতে বলি,প্রথমেই কি বলতে চাইবেন ?

উত্তর ঃ একটাই কথা বলবো, প্রথমে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ভালো করে শিখে নিন। না-হলে একজন শিল্পী কিছুতেই পারফেক্ট নোটেশন লাগাতে পারবে না।

প্রশ্ন ঃ আপনার জীবনের স্মরণীয় ঘটনা যা আজও আপনাকে রোমাঞ্চিত করে ?

উত্তর ঃ ১৫ ফেব্রুয়ারী ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ড়-২০১৪’ বইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জি আব্দুল কালাম। এই বইয়ের ৫৩ নম্বর পৃষ্ঠায় রেকর্ড ব্রেকার ফেস্টিভ্যালে আমার ছবিসহ সাফল্যের  উল্লেখ থাকা এবং তাঁর মত মহৎ ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে গ্রহণ করতে পারার মুহূর্তটাই আমার জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ঘটনা২০১৪  সালে ভারতের সেরা ১০১ জনের মধ্যে আমার থাকা ।  

No comments:

Post a Comment

অরণ্যের নির্জনতা, ধান ক্ষেতে রঙীন শোভা, মাদলের শব্দ এর মধ্যেই আমি এখনও ডুবে আছি' ‎

  'অরণ্যের নির্জনতা, ধান ক্ষেতে রঙীন শোভা, মাদলের শব্দ এর মধ্যেই আমি এখনও ডুবে আছি' ‎ ‎সত্তর দশকের উন্মাদনায় এক ভিন্ন উচ্চারণ-ভঙ্গ...