Friday, October 11, 2024

"নান্দনিকতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টায়" -- কবি- সম্পাদক বাসব মৈত্র


 

 

                          "নান্দনিকতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টায়"


“দৈনিক সংবাদ” বিচিত্রা  বিভাগের সম্পাদক - কবি বাসব মৈত্র, তরুণ কবি হিসেবে আমার একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন । সম্ভবত ২০১৬ সালে, আগরতলা বইমেলায়। 

 

প্রশ্ন ঃ তমাল, সাহিত্য শিল্পের প্রতি আকর্ষণ কবে থেকে ?

উত্তর ঃ আমার ছোটকাকু খুব রবীন্দ্র অনুরাগী ছিলেন । তার ভোরবেলা একমনে রবীন্দ্র সংগীত শোনা, গানের শব্দ আমার মনে গভীরভাবে রেখাপাত করেছিল । বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রেখাপাতগুলোর তারতম্য ঘটতে লাগল । বুঝলাম, কথাগুলো শুধু কথা ছিল না । এই মুহূর্তে মনে পড়ল, ‘রোদন ভরা এ বসন্ত / সখী আসেনি বুঝি আগে’ – শতবার শুনেছি । তবু এইমাত্র যখন আবার মনে হল, নতুন আরেকটি মানে খুঁজে পেলাম যেন – “সখী, সহবাস শেষে কেন সব ভুলে যেতে বল !”

প্রশ্ন ঃ প্রথম প্রকাশিত কবিতার দিনটা মনে করতে পারেন ?

উত্তর ঃ একদম । প্রেমিকার ঠোঁটে প্রথম চুম্বনের মতো । মননের আশেপাশে এখনও তার উষ্ণ-শ্বাস টের পাই । কবিতার নাম ছিল ‘ঢিল’। বিষয়ও ছিল সেই প্রেমিকা...!

প্রশ্ন ঃ কবিতায় জীবনের কোন দিকটা তুলে ধরতে বেশি আগ্রহ বোধ করেন ?

উত্তর ঃ প্রিয় দুটি মানব-মানবীর আলিঙ্গনের ভিতরে পড়ে থাকে যে শুকনো মাঠ, আমি তার কথাই বলতে বেশি আগ্রহ বোধ করি । ‘এত দীর্ঘ ঘরের ভিতর শুধুমাত্র একটি কথার এত দীর্ঘ ব্যথা!’ আমি সেই একটা না-বলা যন্ত্রণা, না-বলা ধর্ষণের কথা, বাথটবের পাশে বসে নির্জন বৃষ্টির মতো কিছু কান্নার কথা, নিষিদ্ধ গোপন চুম্বনের কথা, আমার কবিতায় আমি তুলে ধরতে চাই ।

প্রশ্ন ঃ ‘এই সময়ের সংকট’ – কবি হিসাবে তুমি কীভাবে দেখো ?

উত্তর ঃ ‘জানিস আজ মিনু, মিন্টু, মালতী / আমাকে অনেক কথা বলবে ভেবেছিল।/ শেষ পর্যন্ত কেউ কাউকে কোনও কথা বলতে পারেনি।”

-- এই সহজ করে বলতে না-পারাটা আজকের সংকট । আনন্দের কথাটা সবাইকে বলা যায় । ‘আমার বিশ্রী কিছু দুঃখ আছে, কাকে বলবো?’ হাত-নেড়ে কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না । এটা আজকের সংকট । বন্ধুর মতো শত্রু হাত রাখে পিঠে, চেনাই যায় না । এটা  আজকের, এই সময়ের সংকট । চালাকি, ঢুকে পড়েছে মিষ্টি হাসির ভিতর দিয়ে উঁকি দেওয়া প্রতিটি দাঁতের ফাঁকে । এটা আজকের সংকট ।  

প্রশ্ন ঃ ‘দারিদ্র-বিলাস’ কবিতায় আপনি লিখছেন – “ভাঙা দেওয়াল -/ আরো একটু ভেঙে দিয়ে দেখছি চাঁদ’ – জীবনের কোন প্রেক্ষিত থেকে এ-ভাবনায় ভাবিত ?

উত্তর ঃ  জীবনের বড় হওয়ার সংকট-সংগ্রামে আমার স্বতঃস্ফূর্ত বহু আবেগের ডগা ভেঙে পড়েছিল বালক-বেলাতেই । যাপনের এমন দিনগুলোতেই পরিচয় নবনীতার সঙ্গে । নিজের দুঃখকে যন্ত্রণাকে, না-পাওয়াকে চট করে একঝলকে খোঁপার ভিতরে লুকিয়ে রেখে সে ফুলের মতো হাসতে পারে । একপলকে সেফটিপিনের মতো তার গায়ে গিঁথে গেল আমার ডগা-ভাঙা হৃদয় । দীর্ঘ বন্ধুত্ব শেষে নবনীতাকে বললাম – “চলো, আমরা আজ থেকে ভালোবাসা-বাসি করি!” ভাঙা জীবনের ভিতর দিয়ে আর একটু ঝুঁকি নিয়ে চাঁদ দেখতে লাগলাম দু-জনেই । এবার ষোলোতম বিবাহবার্ষিকী পালন করলাম নিভৃত-অন্ধকারে, চুপিচুপি, কাউকে না-বলে...

প্রশ্ন ঃ “ তোমার ভালোবাসার ভিতরে চেঙ্গিস খাঁ / কবেকার লুকানো অন্ধকার” বা “ ভালোবাসার শব্দগুলো কোলাহলহীন / দমবন্ধ মাছের মত” – ভালোবাসায় এত বিষাদ কেন ?

উত্তর ঃ বিষাদ ভালোবাসায় নয়, বিষাদ বিশ্বাসহীনতায় । আমাদের সবার ভিতরেই একটা চেঙ্গিস খাঁ বসবাস করে । আমরা আমাদের মননশীলতা দিয়ে তাকে পোকার মতো লুকিয়ে রাখি । সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার সময় এলে বা ভেঙে গেলে, তখন সে ক্রমশ উঁকি মারে, গোপন তরবারিও বের করে । তখন বাঘ-নখের ছোঁয়া টের পাই পিঠে ।  মুখ থেকে ভালোবাসা ঝরে গেলে সে চেহারা বড় বিশ্রী । ভালোবাসার যাবতীয় সব শব্দগুলো তখন হয়ে পড়ে বড় কোলাহলহীন । শীৎকার বিহীন...

প্রশ্ন ঃ ‘টিকটিকি’ কবিতায় প্রতীকের প্রচ্ছন্ন ব্যবহার দেখতে পাই । কবিতায় প্রতীক,অলঙ্কারের ব্যবহার সম্পর্কে আপনার মত কী ?

উত্তর ঃ  কবিতায় প্রতীক, অলঙ্কারের ব্যবহারের সময় এখন নয় বলেই মনে করি । এই কবিতাটা প্রকাশিত হয়েছে প্রায় পনেরো বছর আগে । বই আকারে বেরিয়েছিল ২০০৭ সালে । ভাবনায় অনেক পরিবর্তন এসেছে স্বাভাবিকভাবেই । এখন আমি মুখের সাধারণ কথাকেই কবিতায় বলতে চাই । ‘কোথায় থাকো আজকাল!/ তোমার শরীরে ঢুকে পাই না তোমাকে।’ রাতে প্রেমিকাকে বলেছিলাম । সকালে ঘুম থেকে উঠেই কবিতার খাতায় লিখে রেখে, কবিতার নাম রাখি –‘দাম্পত্য-সংকট’। যেহেতু দাম্পত্য-গমন থেকেই কবিতাটি তুলে এনেছিলাম কবিতাটি । এভাবেই দেখতে চাই কবিতাকে । খুব সাধারণ, দীপ্তিতে ভরপুর, শুভ্র গালে ছোট্ট তিলের মতো তীব্র আবেদনে পূর্ণ ।

প্রশ্ন ঃ‘শ্মশান আজ নারী’ কবিতায় প্রকৃতি, নারী এবং মৃত্যু অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে । প্রকৃতি, নারী এবং মৃত্যু এখানে তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছাড়াই ভিন্ন আঙ্গিকে সম্পৃক্ত । আপনার কাছে এর অভিঘাত কীরকম ?

উত্তর ঃ কোনও কোনও নারীর যাপিত জীবন দেখলে আমার এমনই মনে হয় । অভিমান-বঞ্চনা-ব্যর্থতা-আদরহীন বেদনা সারা শরীরে যেন থিকথিক করছে তাদের সর্বাঙ্গে । অথচ তাদের মুখে কোনও কথা নেই । প্রতিবাদ নেই । দেহকে মৃত্যুর দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া কেবল । জীবনের একটা সময় রাতের পর রাত শ্মশানে কাটিয়েছি । স্বজনদের মাতলামি দেখেছি । মরমিয়া কান্নাও দেখেছি । আবার মৃত-মানুষের ছেলে-মেয়েদের মুখে স্বস্তির ছাপও দেখেছি । আমরা জন্মান্তরে বিশ্বাস করি যারা, তাদের কাছে এই মৃত্যু একটা জন্মের সূচক মাত্র । সেই অর্থে শ্মশান জননীও বটে । শ্মশানের নীরবতাটা ভয়ঙ্কর । নিবিড় । সে-ই নীরবতা আমি অনেক নারীর দেহেই দেখতে পাই । আজও পাই । কালও পেয়েছি ।

প্রশ্ন ঃ “সাপের মতো ছোবল কাটছে একটা পাপ / কিছুদিন পর পর-ই আমি তাকে রৌদ্রে শুকিয়ে / ঘরে তুলে রাখি । / যেন গন্ধ না ছড়ায়/ জড়িয়ে না ধরে শরীর” – যদি ধরে নিই আমাদের প্রবৃত্তির মাত্রারিক্ত সচেতনতাই তথাকথিত পাপবোধে আমাদের জারিত করে, তাহলে এটাও ঠিক অভিযোজনের স্বার্থেই তাকে আমরা আড়াল করি । এমন কী এ-বিষয়ে মর্ষকামীতাও আমাদের অন্যতম বোধ । আপনি কী বলেন ?

উত্তর ঃ  হ্যাঁ, আমি এ-বিষয়ে একমত । আর এখানেই তো দংশন যন্ত্রণা ।  কত অসহায় এই অভ্যাসকে মেনে নেওয়া । নিজের বিবেকের কাছে অপরাধী হয়ে বেঁচে থাকাটা বড় কষ্টের । মাঝে মাঝেই সে বোধ ফণা তোলে । তখন তাকে সান্ত্বনা দিতে হয় –- এই পরিস্থিতিতে এটাই ভাল ছিল । কিন্তু অন্তর-আত্মা ঠিক প্রতিক্রিয়া করে ঠিকই --  ‘নিজেকে ভুলিয়ে রাখছিস্ ?’ তখন মর্ষকামীতা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে । সেদিন আর নবনীতার কোল থেকে নামতে ইচ্ছে করে না । আমার খুব কান্না পায় । সে-ও মাঝে-মধ্যে কেঁদে ফেলত ।

মাঝে মাঝে নিজেকে প্রশ্ন করি – হুইলচেয়ারের ভিতরেও কি আমার মর্ষকামীতা লুকিয়ে রয়েছে ? জানি না । আমি কি তাকে তার মানবিক প্রাপ্য সম্মান দিতে পেরেছি ! জানি না । প্রশ্নগুলো চাবুকের মতো আঘাত করে । আর আমি দৌঁড়ে দৌঁড়ে পালাতে থাকি। অপরাধীর মতো  নিয়ে লিখে ফেলি — কবিতা । সবাই হাততালি দেয় ।

প্রশ্ন ঃ কবিতায় নান্দনিকতার ভূমিকাকে কতটা স্বীকার করেন ?

উত্তর ঃ আমার কাছে মানবিকতাই নান্দনিকতা । মানুষকে ভালোবাসা এবং বাসতে পারাই আমার লক্ষ্য তাই তো আজ যদি আবার নবনীর প্রেমে পড়তাম, তাহলে আমি তাকে গোলাপের বদলে সুন্দর ছোট্ট একটা আন-কমন ক্যাকটাসের চারা উপহার দেব । নান্দনিকতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পালটায় । গা-ভর্তি গয়না কেন আজকের নান্দনিকতা নয় – তা বুঝতে হবে । আমি আমার মতো এর ভূমিকা স্বীকার করি ।

প্রশ্ন ঃ ‘দেহ বড় দীর্ঘ সময়’ – কবিতায় যৌনতার ব্যবহার কীরকম হওয়া উচিত বলে মনে করেন?

উত্তর ঃ আমি নবনীতার চোখের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি সে আমাকে কতটা ভালো বাসছে, কি বাসছে না । তার চোখের উজ্জ্বলতা দেখেই আমি বুঝতে পারি, আজ রাতে সে কি, কতটা চাইছে আমার কাছে । শব্দের প্রয়োজন হয় না । কবিতায় ঠিক এইরকমই ব্যবহার আমি করে থাকি । এবং চাইও তাই । পোশাক খুলে সামনে এসে দাঁড়ালে আমার উত্তেজনা চিরদিনই কমে যায় । মোদ্দা বিষয় – ভালোবাসা । যৌনতা তার একটা ভালো মাধ্যম মাত্র । তা ভালোবাসার ভিতর দিয়েই উঠে আসা উচিত ।

প্রশ্ন ঃ “আমি যখন আমার ক্লান্ত স্ত্রীর চুলে বিলি / কেটে ঘুম পাড়িয়ে দেই/ তখন বারবার মা-র কথা মনে পড়ে ।/ এরকম একটা পরিতৃপ্ত জীবন তো তারও হতে পারত।’ – এই কবিতায় দুই পুরুষের এক বিপরীত ভূমিকা রয়েছে । এই দুই পুরুষ দুই সময়ের প্রতিনিধিত্ব করছে একথা নিশ্চিত করেই বলা যায় না । তবু প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, পুরুষতান্ত্রিকতা কিছুটা হলেও নারীর ক্ষত-বিক্ষত জীবনে তুলনামূলক এই সময়ে খানিকটা প্রলেপ দেয়, হয়তো । আপনার কবিতা কি সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে ?

উত্তর ঃ এই প্রশ্নটার সামনে আমি নিজেই বারবার থমকে যাই । ক্ষণিক দাঁড়াতে হয় পাথরের মতো । (দীর্ঘশ্বাস) হ্যাঁ ! একদম তাই । অণু-পরিবারে ক্রমেই মাথা রাখার মতো ঠাঁই কমে আসছে । পুরুষতন্ত্র এখন অনেকটাই তার স্পর্ধা হারিয়ে মানবিকতার কাছাকাছি আসতে বাধ্য হচ্ছে । তার একাকীত্বই এখন তার ভয়ের কারণ । এই ভয় থেকেই সে তার ভাবনায় আমূল পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে । আমার বাবার বুকে হৃদয় রেখে মা যা শুনতে চেয়েছিলেন, যে স্পর্শ পেতে চেয়েছিলেন, ঘাড়ের নিচে যে শিহরণের  জন্য রাতের পর রাত জেগে ছিলেন, দাম্ভিক পুরুষতন্ত্র তা অনাদরে এড়িয়ে গেছে । আজ সে এড়িয়ে যাবার অবস্থা নেই । বিকল্প হাত পেতে বসে আছে । কিংবা আপনি নিজেই স্বার্থ-সচেতন, প্রেম-সচেতন, শরীর-সচেতন হয়ে উঠছেন । আমার ইঙ্গিত সেই দিকেই ছিল ।       

প্রশ্ন ঃ দাম্পত্য-সম্পর্ক আপনার বহু কবিতায় । আজকের দাম্পত্যের ভাঙনটা যেন অনিবার্য একটা ব্যাপার । কীভাবে মূল্যায়ন করবেন ?

উত্তর ঃ আজকের প্রেক্ষাপটে অনেক ক্ষেত্রেই দাম্পত্য হয়ে পড়েছে কারাগারের অদৃশ্য শেকলের মতো । আলিঙ্গনের ভিতরে শ্বাসকষ্টে ভুগছে এমন দাম্পত্য আজ দশ ঘর পর পর বললেও কম বলা হবে হয়তো । আমি মানবিক স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি । অর্থ এবং আইন অনেক ক্ষেত্রেই এখানে অন্তরায় তৈরি করে । রাষ্ট্র আটকে রাখার প্রচেষ্টা করবে, এটাই স্বাভাবিক । মন চাইবে ব্যক্তি-স্বাধীনতা, মনন-স্বাধীনতা, চুম্বনের স্বাধীনতা, অবলীলায় একে-ওপরের পিঠে হার রাখার স্বাধীনতা ।  যে-অর্থে, যে-স্বার্থে সমাজ গড়ে তোলা হয়েছিল, সে-ই সমাজকে আজ মানছে কে ! আমি চারদিকে গাছের ডালের মতো সম্পর্কের ভিতরে কেবল অদৃশ্য শেকলই দেখতে পাই ।  হয়তো আমি ভ্রান্ত ভাবনার শিকার । কিন্তু আমি ভাবছি এখনও পর্যন্ত তাই ...

প্রশ্ন ঃ তমাল, এইবারের বইমেলার অভিজ্ঞতা কী রকম ?

উত্তর ঃ পাখির ডানার মতো বাঁধনহীন । প্রেম ছুঁই-ছুঁই অনুভূতির মতো । বইমেলায় ঢোকার মুখে কাল এক বৃদ্ধ ভিখারিকে দেখে মন খারাপ হয়েছিল, নাগরিক মন খুব সহজেই তাকে পাশ কাটাতে পেরেছিল । বই কিনেছি, বন্ধু তীর্থের বউকে দেখে তীর্থকে বলেছি – সুন্দর ...

প্রশ্ন ঃ “ শ্রমিকের মতো ভালোবেসে যেতে হল/ এতটা বছর / সুখ তো পেলে না তুমি / এই নাও দুশো টাকা / চলো, আজ পুরো রাত শুধু কথা বলি।”

--অর্থের বিনিময়ে যৌনকর্মীর যৌনতা, শরীর ব্যবহার করা হয় । কিন্তু  ‘বিবাহবার্ষিকী-১২’ কবিতার আঙ্গিক স্ত্রীকে পুরো রাত কথা বলার জন্য দুশো টাকা দেওয়ার যে বাসনা, তা কোথাও গৃহবধূ এবং যৌনকর্মীর মধ্যের যে পুরু দেওয়াল তাকে আঘাত করে । কী বলবেন ?

উত্তর ঃ  ভালোবাসা যখন সাজানো হয় তখন তা শ্রমের পর্যায়ে চলে যায় । কেননা, আপনার স্বতঃস্ফূর্ততার বিরুদ্ধে গিয়ে তা করছেন । বিবাহবার্ষিকী-১২ বছরের মাথায় আবেগের এই ওঠা-নামা । অর্থ যৌনকর্মীকে যেভাবে খুশি করে, কোনও কোনও স্ত্রী-কেও স্বামী সেভাবেই খুশি করে, হয়ত টেকনিক্যালি । কিন্তু কৌশল সে-ই একই । দুটো নারীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য শুধুমাত্র বন্ধন-সম্পর্কিত । আবেগহীন দৃষ্টিতে বুকের গভীরে ডুব দিয়ে আমি এই সত্যিই খুঁজে পেয়েছি ।

কিন্তু এটা স্বভাবিক নয় । তাই পরের লাইনে বলেছি – “হৃদয়ের একটা জানালা যদি বন্ধ হয়ে যায়/ অন্য জানালাগুলো খুলি।” হয়ত তখন সম্পর্কটাকে অনেক বেশি সতেজ, প্রাণবন্ত রাখা সম্ভব হবে। না-হলে দেওয়াল আপনা হতেই মননে ভেঙে পড়ে । সম্পর্কের নামও তার ব্যাপকতা এবং মূল্যও হারায়।   

No comments:

Post a Comment

অরণ্যের নির্জনতা, ধান ক্ষেতে রঙীন শোভা, মাদলের শব্দ এর মধ্যেই আমি এখনও ডুবে আছি' ‎

  'অরণ্যের নির্জনতা, ধান ক্ষেতে রঙীন শোভা, মাদলের শব্দ এর মধ্যেই আমি এখনও ডুবে আছি' ‎ ‎সত্তর দশকের উন্মাদনায় এক ভিন্ন উচ্চারণ-ভঙ্গ...