Friday, October 18, 2024

হাওয়াই আড্ডা” গ্রন্থটি, বহমান সময়ের এক জরুরি দলিল

 


        

                          হাওয়াই আড্ডা গ্রন্থটি, বহমান সময়ের এক জরুরি দলিল

                              আলোচনা তমালশেখর দে    

 

 

সাক্ষাৎকারমূলক বইয়ের প্রতি পাঠক হিসেবে আমার দুর্বলতা দীর্ঘদিনের তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, সেই মানের  সাক্ষাৎকার খুব একটা দেখা যায় না অন্তত ত্রিপুরার প্রেক্ষাপটকে মাথায় রেখে বলতেই পারি কথাটা   সাক্ষাৎকারগ্রহণকারী বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সাক্ষাৎকারপ্রার্থীর কাছে কেমন যেন নেতিয়ে যান বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পরিচয়পর্ব পর্যালোচনা পর্যায়েই যেন থেকে যায় আর এখানেই ব্যতিক্রম  প্রদীপ মজুমদার-এর সম্পাদিতহাওয়াই আড্ডা হাওয়াই আড্ডা মুখোমুখি একে একে শঙ্খপল্লব আদিত্য, যার অসমাপ্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রবুদ্ধসুন্দর কর, পল্লব ভট্টাচার্য যার  সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রবুদ্ধসুন্দর করসেলিম মুস্তাফা যার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সত্যজিৎ দত্ত, অমিতাভ দেবচৌধুরী যার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রদীপ মজুমদার, যশোধরা রায়চৌধুরী যার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অমিতাভ দেবচৌধুরী, তাদের সাক্ষাৎকার পড়তে পড়তে একেকজন লেখকের স্ট্রাগল, ইন্টারডিসিপ্লিনারি পাঠ-প্রস্তুতি, ওয়র্ক লাইফ ব্যালেন্স, মনস্তত্ত্ব,দর্শন, প্যাশন সব যেন উঁকি দিচ্ছিল তাদের কথোপকথনে   যেমন প্রতিভ, ক্ষুরধার প্রশ্ন, তেমনই তার উত্তর এখানে প্রথমেই সম্পাদক প্রদীপ মজুমদার সম্পাদকীয়-এক একটা গুরত্বপূর্ণ কথা বলেছেন – “ আসলে একজন লেখক বা কবির বেড়ে ওঠা বা তৈরি হওয়াটা মোটামুটি জানতে হলে বিহাইন্ড দ্য স্ক্রিন তোমাকে আলো ফেলতেই হবে। সম্পাদকের এই দৃষ্টিকোণকে মাথায় রেখেই কিন্তু পাঠে যেতে হবে পাঠকদের

মূলত আজ থেকে প্রায় দুই দশক আগেকাগজের নৌকা’- বিভিন্ন সংখ্যায়হাওয়াই আড্ডা’- এই শিরোনামে যে ইন্টার্ভিউগুলো প্রকাশিত হয়েছিলহাওয়াই আড্ডাবইটি তারই সংকলিত রূপ এই গ্রন্থটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হল, এই ইন্টার্ভিউগুলোর একটি লিটারারি ভ্যালু রয়েছে ইন্টার্ভিউতে এই ভ্যালু থাকে না এই সব ইন্টার্ভিউতে কবিতা থেকে কথা গড়িয়েছে তন্ত্র, লোকায়ত দর্শন, ছন্দ, পঞ্চায়েতি সমন্বয়, কবিও কাব্যগ্রন্থ, স্বরভঙ্গি, দৃষ্টিকোণ, বাংলাবাজারের গতিপ্রকৃতির প্রচুর প্রসঙ্গ ছুঁয়ে ছুঁয়ে এগিয়ে গেছে বিষয় থেকে বিষয়ান্তরে এখানেই এই গ্রন্থের সার্থকতা বলে আমি মনে করি

প্রবুদ্ধসুন্দর কর আর পল্লব ভট্টাচার্য এই দুজনের কথোপকথন টক্করে টক্কর যেন ! উত্তর দাদাকে শুধু প্রশ্ন করাই কিন্তু ইন্টারভিউয়ারের লক্ষ থাকে না, থাকে তাকে আরও ভালো করে জানার এক স্পৃহাবোধ তাই কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাকেও নিজে থেকে ধরা দিতে হয় এক্ষেত্রে পল্লব ভট্টাচার্য কিছুটা হতাশ করেন বই কি! তারপরও মৌলিক কিছু বিষয় জানু খেলোয়াড়ের মতো প্রবুদ্ধসুন্দর কর ছিনিয়ে আনতে পেরেছেন এটাই এই  কথোপকথনের সার্থকতা

সত্যজিৎ দত্ত আরও ঝাঁকিয়ে ধরতে পারতেন সেলিম মুস্তাফাকে কিছু ক্ষেত্রে আক্রমণের আগেই আক্রমণ করতে হয়, সে ক্ষেত্রে সত্যজিৎ দত্ত ততটা সুবিধা করতে পারেন নি বলেই আমার মনে হয়েছে তারপরও সত্যজিৎ দত্ত  যখন জীবনের সঙ্গে যৌনতার সম্পর্ক আঁকারএই ক্ষেত্র নিয়ে   প্রশ্ন তুলেন, তখন সেলিম মুস্তাফা যথার্থ উত্তর দেন –“ আমি কিছুই আঁকতে চাইনি কখনো চাই- না একটা অ্যাসপেক্ট! -! এতে কী বোঝায় এতে পাঠক কী বোঝেন এতে সমালোচক কী বোঝেন এটা প্রত্যেকের নিজস্ব এবং আমার সম্পূর্ণ অজানা ... আমার ধারণা যৌনতা ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্তার প্রথম এবং প্রধান আশীর্বাদ।

 

প্রদীপ মজুমদার অমিতাভ দেব চৌধুরী- আড্ডা টক-ঝাল-মিষ্টি- ছিল প্রদীপ মজুমদার একটা লক্ষ্যের দিকেই এগিয়েছেন এবং যা কাম্য ছিল তা ছিনিয়েও এনেছেন কবির সামগ্রিক যাপনকে জানাও অত্যন্ত প্রয়োজন, তার কবিতাকে সিরিয়াসলি বিশ্লেষণ করতে গেলে এই সাক্ষাৎকার নেওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে বলতে গিয়ে সম্পাদক বলেন – “প্রায় মাসের ইন্টারোগেশন সহ্য করে সম্ভবত দীর্ঘতম সাক্ষাৎকারটি দিয়েছেন আমার পাল্লায় পড়ে, যা কাগজের নৌকার ষষ্ঠ সংখ্যায় প্রকাশিত হয় অথচ প্রথম প্রশ্নেই তাঁর চটে যাওয়ার কথা ! এবং নির্দ্বিধায় আমাকে গুডবাই বলে দিতে পারতেন, কিংবা অখণ্ড নীরবতার আশ্রয় নিতে পারতেন যেটা কবি শঙ্খপল্লব আদিত্য করেছিলেন কিন্তু আমাদের সৌভাগ্য মাথা গরম না করে, অথবা করে, তিনি শেষপর্যন্ত ক্রিজে নট আউট ছিলেন, এবং মাঝেমধ্যে হাসতে হাসতে ওভার বাউন্ডারিও মেরেছেন তাঁর ইন্টারভিউয়ার হিসেবে এবং একজন সম্পাদক হিসেবে একথা আমি বলতে পারি, হয়ত জোর দিয়েই বলতে পারি এই ইন্টারভিউটির কাছে তাকে বারবার ফিরে আসতে হবে   এই মন্তব্যের সাথে পড়তে পড়তে আমিও একমত হয়েছি আশা করি, আপনারাও হবেন      

অমিতাভ দেব চৌধুরী যশোধরা রায় চৌধুরী- সাক্ষাৎকার পর্ব পড়েও মনের ভিতরে অতৃপ্তি পুরোই থেকে গেল মনে হল এই  সাক্ষাৎকার পর্বটা আরও ব্যাপক হতে পারত এত সহজে, বা চট করে কি কাউকে পাওয়া যায় ? না-ধরা যায় তার চেতনা বোধকে ? তার বেসিক-ভাবনা বিন্দুটাকে তো ধরতে হবে পরিষ্কার করে তা সে দুই লাইনেই হোক ! আরও অন্তত তিন- চারটে প্রশ্ন- উত্তর পর্ব চলতেও পারত তবে অমিতাভ দেব চৌধুরীর – “ উত্তর পূর্বাঞ্চলের কবিতার শক্তি সামর্থের জায়গাটা ঠিক কোথায় ?এই প্রশ্নের উত্তরে যশোধরা রায়চৌধুরী খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলেছেন – “... আসলে উত্তর-পূর্বের লেখালেখিকে মূল ভূখণ্ডের লেখালেখির থেকে আলাদা কিছু ভাবার আমি বিপক্ষে আমার কাছে একটি ভালো কবিতা আগে।

হাওয়াই আড্ডা”-   সম্পাদক  প্রদীপ মজুমদার খুব স্পষ্টভাবেইসম্পাদকীয় (এক)অংশে  যত্ন সহকারে সবার সার-কথাই উল্লেখ করে সূত্র ধরিয়ে দিয়েছেন। ফলে সাক্ষাৎকারদানকারীকে ধরতে খুব বেশি বেগ পেতে হয় না পাঠকদের এরপর যা  বাকি থাকে, তা পাঠক হিসেবে আপনাকে কোথায় স্টাইক করলো কিংবা কোথায় পাঠক হিসেবে আপনার মনে হয়েছিল আরও একটু হলে ভালো ছিল, সেটা ভিন্ন বিষয় হতেই পারে কিন্তু এই গোটা সাক্ষাৎকার পর্বে আমাকে ভাবিয়েছে কবি- কথাসাহিত্যিক বিকাশ সরকারের – “নিজের মুখোমুখি”- পর্বটা   একটু অভিনব, একটু ঝুঁকিপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ’- এই কারণে বললাম, এখানে আপনিই আপনার নিয়ন্ত্রক এবং বিচারক সেই অর্থে এই পর্ব নিয়ে আমি শুরু থেকেই কিছুটা উত্তেজিত ছিলাম এবং পড়তে পড়তে এসে থামলাম – “ আমি আমি আমি এত আমিত্ব কি আত্মরতিরই নামান্তর নয় ? তুমি যে শুধুই তুমি টা তো নয়; তোমার মধ্যে আমিও রয়েছি। তুমি আমাকে বাদ দিতে পার না বিকাশ, অবহেলা করতে পার না যদি আমি না থাকি তোমারই মধ্যে তবে সাক্ষাৎকারখানাই তো হয় না।বিষয়টা হঠাৎ করে আঁকড়ে ধরল যেন আমাকে এভাবে তো ভাবিনি মনে পড়ে গেল উপনিষদের সেই বাণী – ‘তুমি সত্য, তোমার দেহ সত্য নয়!’ এখানে বিকাশ সরকার আবার দুজনেরই মুখোমুখি, কী অদ্ভুত সংযোগ না ?

এই আত্ম-সাক্ষাৎকার-টার মূল সূত্র লুকিয়ে আছে তার গদ্য শৈলীর ভিতরে অদ্ভুত এক তন্ময়তার মধ্য দিয়ে নিজেকে একপ্রকার টেনে ছ্যাঁচড়ে নিয়ে ছুটে গেছেন, নিজেকে নিজের ভিতরের দিকেই তারহ্যালুসিনেশন সিরিজযেন তারই এক কাব্যরূপ গদ্য-পদ্যের সব্যসাচী রূপ দেখতে পাওয়া যায় তার গদ্যশৈলীর এই প্রকরণে  তার আত্ম-কথন থেকেই তুলে আনলাম, তারই ব্যবহৃত দুটো-তিনটে কবিতার লাইন – “ পাথরের মতো অন্ধকারের ঠেস দিয়ে বসে আছি আমি / অন্ধকারের থাবা থেকে খসে পড়ে বাল্যকাল / আর যাবতীয় হস্তমৈথুন / যেন প্রত্ন উপাদান, পড়ে থাকে আমার প্রাচীন ফসিলডায়েরি / ডায়েরির ভিতর কাঁদে নষ্ট শব্দ আর ভ্রষ্ট অক্ষরেরা  একটা রক্তঝরা সচেতন আত্মক্ষরণ যেন তার ভিতরে  সারাক্ষণ  খেলা করে এই বোধকে সাহিত্যের বাহানায় নানাভাবে পাঠকের ভিতরে তিনি সেলাই করার মতো গিঁথে দিতে পেরেছেন আর এখানেই আমার মনে হয়েছে, এই আত্ম- সাক্ষাৎকারের সার্থকতা বাকিটা পাঠক নিজেরাই যাচাই করবেন সে দায়িত্ব  একান্ত আপনাদের  

এই সময়ের  বাংলা সাহিত্যের চরাচরে  গুরুত্বপূর্ণ এই ছয়জন কবি-ব্যক্তিত্বকেহাওয়াই আড্ডা  গ্রন্থে তুলে ধরা হয়েছে বিভিন্ন কারণেই এদের সবাইকে একসাথে পাওয়া মুস্কিল ছিল এই অসাধ্য সাধন করতে পেরেছেন বলে সম্পাদককে আলাদা করে একটা ধন্যবাদ দিতেই হয় আমি অতি সংক্ষেপে এই ছয় ব্যক্তিত্বের ছয়টি চিন্তা-বীজের কি-পয়েন্ট উক্তি তুলে ধরার লোভ সংবরণ করতে পারছি না কিছুতেই   কবি শিল্পীদের রাজনীতিটাও তাদের নিজস্ব কেতাকানুনের বিষয়বস্তু মাত্র, কোনও রাজনীতি একে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, কোনওদিন পারবেও না।” –  শঙ্খপল্লব আদিত্য-এর এই  মূল্যায়নকে অস্বীকার করার সাধ্য কার ?  আবার প্রতিষ্ঠান নিয়ে  বলতে গিয়ে পল্লব ভট্টাচার্য বলছেন – “আমি প্রতিষ্ঠান বিরোধী নই আশরীর প্রতিষ্ঠানের দাস বলেই জানি এর স্বরূপ তাই মগজ দিয়ে একে আমি স্বীকার করি নৈঃশব্দে একে আমি শিকার করছি আবার নিজেও আমি এর শিকার হচ্ছি স্ববিরোধের এই আলো অন্ধকার ভাষাই আমাকে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেলিম মুস্তাফার এই উক্তি –“ পাপকে ছেড়ে দিলে পুণ্যের কোনও অস্তিত্বই থাকে নাএটি যেন একটি  ম্যাক্সিম আবারঅনেক কারাগার মানুষের পরিবার একটা কারাগার সমাজ আরেকটা নীতিবোধ, ধর্ম, ট্যাবু, টোটেম, রাজনীতি, দর্শন, ঈশ্বর সবকিছুই মানুষের এক একটা কারাগার এই কারাগারগুলি মানুষ তৈরি করেছে তার মুক্তিরই জন্য অথচ মুক্তি মানুষের কাছে চিরকালই অধরা থেকে গেছে।  অমিতাভ দেব চৌধুরী- এই মূল্যায়নটি  নিয়ে ভাবতে বাধ্য হয় কার্যত যশোধরা রায়চৌধুরী এই সময়ের প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে যথার্থই বলছেন – ““সাহিত্যের কেন্দ্র প্রান্ত খুবই বুঝি তবে ক্রমশ বাজার অর্থনীতি গ্রাস করে নিচ্ছে এই বিতরণকে এখন আলাদা করা মুশকিল কে কেন্দ্র, কে প্রান্ত!  আবার   বিকাশ সরকার-এর  দাবাং পাঞ্চের এই উক্তিতে  ভ্যাবাচাকা খেয়ে যাই, যখন তিনি সটান বলে ফেলেন – “তুমি যা আয়নায় তোমাকে সেভাবেই দেখায়, শুধু কিছু ভৌতবিদ্যার সূত্র অনুসরণ করে।       

অবশেষে বলতেই হয়, ত্রিপুরার সাহিত্যের ইতিহাস চর্চায় এই গ্রন্থটি একটি আকর-গ্রন্থ হয়ে থাকবে একেকজন লেখকের স্ট্রাগল, ইন্টারডিসিপ্লিনারি পাঠ-প্রস্তুতি, ওয়র্ক লাইফ ব্যালেন্স, মনস্তত্ত্ব, দর্শন, রেজিস্টেল, প্যাশন সেলফ এডিটিং, একটি কনটিনিউয়াস প্রসেসের ভেতর দিয়ে তাদের যাত্রাপথ সবই উঠে এসেছে হাওয়াই আড্ডা গ্রন্থের ভিতর দিয়ে অবশ্যই  সংগ্রহযোগ্য একটি মূল্যবান বই প্রচ্ছদ করেছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত প্রচ্ছদশিল্পী চারু পিন্টু মনোরম এবং চিত্তাকর্ষক অবশেষে আবারও প্রদীপ মজুমদারকে ধন্যবাদ দিতেই হয় এমন একটি অসাধ্য সাধনের জন্য ত্রিপুরার অভিজ্ঞ পাঠকমাত্রই বুঝবেন, কাজটি করা কতটা দুঃসাধ্য ছিল

 

গ্রন্থ হাওয়াই আড্ডা

সম্পাদক প্রদীপ মজুমদার

প্রকাশক নীহারিকা পাবলিশার্স

মূল্য ৪০০ টাকা

No comments:

Post a Comment

অরণ্যের নির্জনতা, ধান ক্ষেতে রঙীন শোভা, মাদলের শব্দ এর মধ্যেই আমি এখনও ডুবে আছি' ‎

  'অরণ্যের নির্জনতা, ধান ক্ষেতে রঙীন শোভা, মাদলের শব্দ এর মধ্যেই আমি এখনও ডুবে আছি' ‎ ‎সত্তর দশকের উন্মাদনায় এক ভিন্ন উচ্চারণ-ভঙ্গ...