জিভের টানেলের সামনে অকুতোভয় কবি সম্রাট
বুক
রিভিউ – তমালশেখর দে
“তোমার আমার কাব্য বিছানার/ চাদর মুড়িয়ে নিয়ে
গেছে / পরিযায়ী ঝলসানো ঠোঁট” ( টেলিফোন)
“পাজামার ফিতের মতো / বারবার খুলে যায় জুড়ির বাঁধে / কফির চামচ ডুবিয়ে ধরে / রাখতে
পারিনি স্যান্ডউইচ মুড়ি দেওয়া / ফুটো ফুটো ঘামের যৌনতা” (এস্রাজ) “ জিভের টানেলের
সামনে / এখনো জড়িয়ে আছো / জড়িয়ে আছো রাতের ভাষায় / থানা রোডের সিগন্যালের মতো”
(সিগন্যাল)। তরুণ কবি সম্রাট শীলের “৪৩তম
আগরতলা বইমেলা”
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ – “
যতবার উৎসব কেটে গেছে” পাঠ করতে করতে দেখছিলাম, তরুণ কবিদের কবিতার ভাষা কীভাবে
পালটে যাচ্ছে পূর্ববর্তী কবিদের কাব্যভাষা থেকে । এটাই বোধহয় সময়ের প্রভাব । জীবনের
ভিতর থেকে ছোটো ছোটো বিষয়কে কেন্দ্র করে এগিয়ে যাচ্ছে তার ভাবনার জগতে । প্রেমকে
আর গভীর বিষয় হিসেবে দেখছে তারা । তারা সামাজিক প্রেক্ষাপটের আরও গভীরে চলে যাচ্ছে
অনায়াসে । তাই তো সম্রাট লিখছে – “ যতটা দৌড়বার কথা ছিল / ঠিক ততটা মুখ থুবড়ে পড়ে
যাই” ( ডুবতে দেখি)। কিংবা “ আমি জানি না কতটা / ফুল তুলে নিলে / একটি গাছ দিনের
পর দিন / আমাকে এড়িয়ে বসে থাকে” (বুক-পকেট) । এই প্রজন্মের
ভাষা, উপমা, কীভাবে একটু একটু করে পালটে পালটে
এগিয়ে যাচ্ছে । নিজেকে প্রশ্ন করতে করতে তারা ধরতে চাইছে জীবনের জটিলতাকে । রাজনৈতিক-
সামাজিক জটিলতাকে । রসে আহ্লাদিত প্রেমের কাব্যময় ভাষা থেকে সম্রাট কিছুটা নিজেকে
দূরেই সরিয়ে রেখেছে । আবেগ-সর্বস্ব প্রেমের বাস্তবতা থেকে জেন-জি জেনারেশন ক্রমশ
যে সরে আসছে , এইসব কবিতা পড়েই তা বোঝা যাচ্ছে । তারা এখন বাস্তবতার খুব কাছাকাছি
থাকতে বেশি স্বচ্ছন্দবোধ করে । তাই কী সুন্দর বয়ান করছে – “ এবার কোনো ফসল ফলেনি /
খুলেনি ডিএনপির ঢাকনা / পাম্পের দরজা আর / তোমার ঠোঁটের পাঁচিল” ( পাঁচিল) কিংবা “
যেভাবে থরফর করে শুকিয়ে / গেছে তোমার চোখের কাজল / এখন আর লিখতে চাই না / ভাঙা
গ্লাসে চুমুর অবশিষ্ট ছোবল” ( চুমু) । তরুণ কবিদের এইসব ভাবনা
আমাকে প্রেরণা দেয় । নিজের দেখা জগত থেকে
তুলে আনছে কবিতা । চিত্রকল্প । তাদের
সম্ভাবনা নিয়ে আমি খুব আশাবাদী । কবি সম্রাট শীলও খুব মননশীল । নিশ্চয়ই তারা
ত্রিপুরার কবিতা জগতকে আগামীতে আরও ভালো ভালো কাব্য উপহার দিয়ে আমাদের মুগ্ধ করবে
। প্রচ্ছদ করেছেন অশোক দেব । বরাবরের মতো মন ছুঁয়ে যাওয়া তাঁর কাজ ।
No comments:
Post a Comment