Saturday, January 27, 2024

আমারছোটোকবিতাসংকলন


 

**   দারিদ্রবিলাস **

 

ভাঙা দেওয়াল, আরও একটু ভেঙে দিয়ে

দেখছি চাঁদ ।     

 

কথা

 

কে জানতো, এত দীর্ঘ ঘরের ভিতর

শুধুমাত্র একটি কথার এত দীর্ঘ ব্যথা ।

 

৩। ব্যর্থতা

 

বড় সহজে একটা দিন আমাকে অতিক্রম করে যায়

একটা দিনকে আমি অতিক্রম করতে পারি না

সারাজীবনের রাত যোগ করে ।

 

৪। হঠাৎ একদিন

 

কথা বলতে বলতে হঠাৎ একদিন দেখি

ভালোবাসার শব্দগুলো কোলাহলহীন দমবন্ধ মাছের মতো ।

 

৫। গামছা

 

আমি যখন আমার গামছায় হাত রাখি

একটা আপনত্ব শুষে নেয় শরীর ।

বড় পাপ

বড় দুঃখে কাতর এই শরীর ।

 

৬। বিবর্তন

একদা যেখানে যুদ্ধ হয়েছিল

আজ সেখানে  ফুল হাত তুলে আছে ।

 

৭। দৃঢ়তা

হাঁটু ভেঙেছি, ভাঙতে দাও ।

মাথা ভাঙতে দেবো না কোনোদিন ।

 

৮। অহল্যা

 

এ জীবাশ্ম কার, মাটি ? পরিচয় করিয়ে দাও!

বহুদিন ধরে পাথর হয়ে আছি ।

 

৯। নীরবতা

 

আমি দুয়ার খুলে বসে আছি

বিরহ, আমাকে রাঙাও ।

তোমার মতো রাঙিয়ে দিয়ে যাও

কথা বলার মতো ঘরে কেউ অবশিষ্ট নেই!

 

১০। ঘরবাড়ি

 

তুমি যতবার ওড়াও

আমি ততবার পড়ে যাই

ভালোবাসা এমনই এক অলীক মাটি

গড়তে গড়তে কেবলই ভুলের ছড়াছড়ি ।

 

১১। ভবলীলা

 

আমাকে আমার মতো সাজাতে পারিনি কোনদিন!

পিতা হতে কে চেয়েছিল, বিছানা না নারী ?

ছক্কাতে ছেড়েছি দান, থামবার নাম নেই ।

 

 

১২। দুঃখ

 

কিছু কথা সবাই বলে চলে যায়

কিছু কথার জন্য চেয়ে থাকি পথ ।

ভয় হয়, চারিদিকে এত প্রেম

আমার  লালিত দুঃখগুলো যেন হারিয়ে না-যায় !

 

 

১৩। বিস্ফোরণ

 

অন্ধকার চেয়ে আছে অন্ধকারের দিকে

পোড়া দেহের গন্ধ ছড়াচ্ছে শরীর থেকে শরীরে

 

সব বিস্ফোরণ ভাঙা হবে একদিন ।

 

১৪। বারবণিতা

 

কিছু সত্য আছে যা কেবল তোমাকেই বলতে পারি

কিছু সত্যের কাছে মাথা নুয়াতে ইচ্ছে করে না

তাই তো বারবার তোমার কাছে ছুটে আসি ।

 

১৫। সম্পর্ক

 

আমি শুধু নাড়িয়ে দিয়েছিলাম তার ব্যথা

তারপর সে উড়ে গেছে

তাকে আর বিছানায়  টেনে আনতে পারিনি

 

১৬। হুইলচেয়ার

 

ভেঙে যাওয়া হুইলচেয়ার সরিয়ে রেখেছিলাম উঠোনের পরিত্যক্ত কোণায়

হঠাৎ একদিন চেয়ে দেখি

বনলতায় ছেয়ে গেছে গোটা শরীর

ভিতরে গুনগুন করছে পাখি ।  

 

১৭। জাগরণ

 

যতক্ষণ জেগে থাকি ততক্ষণ ভালোবাসার কথা মনে পড়ে

ঘুমিয়ে গেলে কেঁদে ওঠে পাখি

যে পাখি ঘুমায়নি বহুদিন

 

 

১৮। প্রেম

 

আমাদের গ্রামে কোথাও কোনো নদী নেই ।

তবু আপনাকে যখন দেখি, নদীর মতো তাকিয়ে থাকি ।

 

১৯। ঢিল

 

পায়ের নিচে মাটি রেখে ঢিল ছুড়তে হয় । 

 

ছুরির মতো সম্ভাবনাময় একটা সুযোগের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে  আছি ।

আপনারা  নির্যাতিত সকলে আমার জন্য প্রার্থনা করুন ।  

 

২০। প্রতিমা

 

তোমাকে জিজ্ঞেস না-করে

কী করে তোমার  দুয়ার থেকে মাটি তুলে আনি!

 

দরজার সামনে গিয়ে তাই প্রতিবার দাঁড়িয়ে থাকি ।

 

২১। ছদ্মবেশি

 

সাপের মতো ছোবল কাটছে একটা পাপ

কিছুদিন পর পরই আমি তাকে রৌদ্রে শুকিয়ে ঘরে তুলে রাখি ।

যেন দেহে গন্ধ না- ছড়ায়

জড়িয়ে না-ধরে শরীর ।

 

২২।  কাতরতা

 

আপনাকে দেখলেই মনে হয় আজ দিনভর মেঘলা আকাশ

 আনমনে বৃষ্টি হচ্ছে কোথাও,

আর আপনি কান্নার আড়ালে হাঁটছেন কাঁদছেন

 

 

২৩। যাত্রা

 

কাল সারারাত স্বপ্নের মাঝে পুরনো বাড়ি

দরজা নড়েছিল একা একা ।

 

২৪। যুদ্ধ

 

এই যে পেছন হাঁটছি, এটা যুদ্ধ ।

এই যে তোমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আছি

                                                   এটাও যুদ্ধ ।

২৫। শঙ্খলাগা মুহূর্ত

 

যেদিন আমার খুব মন খারাপ থাকে

দুর্ভাগ্যবশত সেদিনই তোমার উৎসাহ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।

 

এমন মিলনই আজকাল আমাদের মাঝে স্থায়ী হয় বেশি ।

 

২৬। দাম্পত্য/ ১

 

শুধুমাত্র মশারির  ভিতরে ছোট্ট একটা মশা

এছাড়া  তেমন কোনো সমস্যা নেই আমার দাম্পত্য জীবনে।

 

২৭। ভালোবাসা /১

 

আমার মনে পড়লে, আমি তাকে দেখে আসি,

তার মনে পড়লে,

সে আমাকে দেখে যায় ।

 

এভাবেই আমাদের সম্পর্ক বছরের পর বছর গড়ায়

 

 

 

২৮। অপরাধী

 

তার বেদনায় হাত দেওয়ামাত্র

তার যাবতীয় সৌন্দর্য ফুলের মতো ঝরে গেল ।

 

২৯।  ঘরবাড়ি

 

লোকটা বলেছিল, আমার লগে বাড়ি, লগে ঘর ।

আমি তৎক্ষণাৎ চোখ তুলে,

লোকটার বাড়ি-ঘরের দিকে তাকিয়ে থাকলাম

সর্বাঙ্গে একটা গ্রাম গ্রাম ভাব

সামনে পুকুর পেছনে বিস্তীর্ণ মাঠ ।

 

৩০ । মাড়াই – ১

 

বৃত্তের ভিতর বৃত্তের মতো ঘুরছে যে মেয়েটি

তাকে এর আগেও বহুবার দেখেছি

তবু যেন এভাবে কোনোদিন বুঝিনি তাঁকে ।

বৃত্তের ভিতরে সে-ও এক বৃত্ত

 

৩১। শূন্যতা

 

বৃষ্টির দিনে কথা রাখলে না

এ তোমার কেমন কথা ।

মাথা থেকে পা পর্যন্ত ভিজে গেলাম

সর্বত্র তোমার শূন্যতা ।

 

৩২। মিলন

 

ঘাড়ের কাছে মুখ গুঁজে

কী যে খুঁজি কে-বা জানে !

যে-কথা মিলনে বলিনি, সে অন্য কথা

অন্য কোনো ব্যথা ।  

 

৩৩। বাক্যদান

 

বুকের ভিতর থেকে ছিটকে গিয়ে

আবার কেন ফিরে তাকালে !

যেতে যখন হবে, যাও,

নুপূরের মতো যাও

মৃদু সুরে মৃদু কান্নায় ।

 

৩৪। দাম্পত্য

 

ঘরের কাছে গিয়ে ভাবছি

এ কোথায় ছুটে চলেছি ।

এ কোন গহীন অরণ্য

সমুদ্র সৈকতের নীরবতা!

 

 ৩৫ । ভালোবাসা

 

তার নিঃসঙ্গতায় সঙ্গ দেবার কোনো উপায় নেই  

কেবল মোবাইলের  ছুঁয়ে রাখি হাত  

 

 

৩৬। বিহঙ্গ

 

মিলনের সময় তুমি যখন বুকের নিচে

পাখির মতো ছট্ ফট্ করো তখন আমার আনন্দ হয় ।

 

আমার দুঃখ হয় –

তোমাকে যখন উড়ন্ত পাখির মতো সুখ দিতে পারি না ।

 

৩৭। একাকার

 

বৃষ্টির ফোঁটার সাথে আজ কান্নার জল মিশে গেল

অজস্র পায়ের মধ্যে দিয়ে ভেসে গেল, দূর থেকে দূরে

পা জানল না কার পা ছুঁয়ে গেল

কার কান্নার জল ।

 

৩৮। ধামাইল

 

ধামাইল নাচের সঙ্গে সঙ্গে তোমার ঐ ওঠা, ঐ নামা

আমাকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো দাঁড় করিয়ে রাখে ।

তুমি যখন মাথা নোয়াও মনে হয় তুমি প্রণতি

আর যখন উঠাও মনে হয় তুমি দেবী ।    

 

৩৯। ধামাইল / ২

 

সারারাত ধামাইল শেষে রঞ্জনের মা-র মুখে তৃপ্তির হাসি

দীর্ঘ বেদনার পর আজ আবার দেহ দুলিয়েছিল

নেচেছিল সারারাত, কী-জানি কিসের মোহে !

আজ বিয়ে ।

আজ বিধবা রঞ্জনের মা মুখ দেখাবে না কনের সামনে ।

 

৪০ । রাজনীতি

 

বেয়নেট থেকে গুলিটা তখনই বেরিয়েছিল

যখন কৃষকের মুখ থেকে বেরিয়েছিল – ‘না’ ।

 

আজ ‘না’ পেয়ে গেল নায়কের সম্মান

দেহ পড়ে রইল মাঠে ।

 

কিছু লোক এতক্ষণে জেনে গেছে –

‘কাল মিছিলটা জমবে’।  

 

৪১।  নন্দীগ্রাম

 

শরীরের ভালোবাসা শেষে

দীর্ঘক্ষণ কথা বললাম তার সাথে ।

 

কাল, কী হবে কাল জানে !

লোক জড়ো হচ্ছে জমির এপারে ওপারে ।

 

৪২। কান্না- ১

 

এ ঘরে দু ফোঁটা জল ঝরে, তো

ও ঘরে দু ফোঁটা ।

ছোটো মোটো ফ্ল্যাটে

এভাবেই দিন কাটে তার ।

পরনে সাদা শাড়ি ।

 

৪৩। সম্পর্ক / ১

 

দীর্ঘ বন্ধুত্ব শেষে,

বেদনার কথা এমনই বলতে গেলাম তাকে –

চুপিসারে সরে গেল সে ।

 

৪৪।  দাম্পত্য -৭

 

এমন একটা দিন ছিল

আমি কাঁদলে সে কেঁদেছে

সে কাঁদলে আমি ।

 

আজ সবই জলাঞ্জলি ।

 

তবু সে আছে

আমি আছি ।

 

৪৫।  দাম্পত্য – ৩

 

গালের কান্না গালেই শুকাল

খুঁজে পেল না হাত ।

 তোমাকে জড়াতে গিয়ে দেখি – সবই শূন্য

 বালিশে ভিজে রাত ।  

 

৪৬। সম্পর্ক – ৩

 

সে আর নেই ।

সে যে কী ব্যা !

 

সে কি আর তা জানে ?   

 

৪৭। নিঃসঙ্গতা

 

কান্নারা আজ একা একাই গড়িয়ে গেল

হাত দিয়ে বাধা দিল না কেউ ।

 অবসরে পাখি এঁকে দিলাম কান্নার গায়

পাখিটিও নিরুপায়  

একা একা জলের মতো  নিঃস্ব শুকায় ।

 

৪৮। দাম্পত্য – ৬

 

তাকে আর দূরে সরিয়ে রাখা যায় না ।

সে যে এমনই প্রিয়

সম্পর্কের ভিতরে গাঁথা অভিমান ।

 

৪৯। পতন

 

উত্থানে স্বাদ আছে জানতাম

এই প্রথম জানলাম পতনেও এত স্বাদ ।

সর্বশেষ মুহূর্তে আপ্রাণ জড়িয়ে ধরলাম তাকে ।

পতনেও সে যে আমার শেষ ঠিকানা ।

৫০। দাম্পত্য – ৩

 

একটা দেহের কাছে আরেকটা দেহ কত অসহায়

তুমি জান,

আমিও জানি ।

তবু, রেগে যাই

বিছানার দুদিকে শুয়ে থাকি দুজন ।

 

৫১।  দাম্পত্য-সংকট – ১

 

দুজনই দুজনার কাছে ভেঙে পড়েছিল

যে সত্য বলছে – সেও

যে মিথ্যে বলছে – সেও

 

৫২।   দাম্পত্য-সংকট – ২

 

একদিন কল্পনাও করতে পারতাম না।

 

আজকাল তোমাকে ছুঁয়ে অনায়াসে মিথ্যে বলতে পারি ।  

 

৫৩। ঘুণপোকা

 

কোথায় থাক আজকাল!

 

তোমার শরীরে ঢুকে পাই না তোমাকে ।

 

 

৫৪ । মিলন – ২

 

আজ আমাকে কোনো বাধা দিয়ো না ।

 

আজ আমার বেদনার দিন ।

আজ আমাকে দীর্ঘ চুমু দিতে দাও

আজ আমাকে কাঁদতে দাও সারারাত ।

 

৫৫।  প্রিয় বেশ্যা – ১

 

তুমি জান না, তোমাকে ব্যবহার করে

আমি আমার কাছে ফিরে যাই ।

তুমি পড়ে থাকো সেই বিছানায়

চাঁদের কলঙ্গ যেমন চাঁদের গায় ।

 

 ৫৬। প্রিয় বেশ্যা – ২

বহুদিন আগে হোটেলের যে-রুমে সারারাত শেষে

তাকে ফেলে এসেছিলাম একা।

 

আজ তার একাকীত্ব মনে বড়ো বাজে ।

 

৫৭। আত্মকাহিনি

 

যে আমার সাথে বড়ো হয়নি

সে কী করে বুঝবে

দুঃখেরও একটা বেলাজপনা থাকে ।

 

৫৮। জলাঞ্জলি

 

বিয়ের রাতে বেড়ালটাকে আমিও মারতে পারিনি ।

আঁচড়ের প্রেমে পড়ে গেছি ।

সে-ই থেকে আমি ও বেড়াল

 

সংসার জলাঞ্জলি ।

 

৫৯। এক ঝাঁক স্বপ্ন

 

আমার এক ঝাঁক স্বপ্ন হঠাৎ ভেঙে পড়ার পর

যে টুকরোগুলো বেঁচে থাকে,

আমি তাদের জীবনানন্দের গল্প শোনাই

বনলতার কথা বলি ।  

 

৬০ । পরকীয়া

 

আজ রাধা গেল কৃষ্ণের পাশে

আয়ান দিল মশারি গুঁজে ।

পাড়াপড়শি কেউ ঘুমাল না

মরমি সানাই বাজল চারিদিকে ।  

 

৬১। আয়ান

 

আয়ান ঘুমিয়ে পড়েছে । রাত্রি দ্বি-প্রহর।

রাধা দরজা খোলে –

আয়ান মনে মনে হাসে ।

 রাধা চলে যায় । আয়ান কাঁদে –

রাধা তুই কলঙ্কী আমারই কারণে ।

 

৬২ । সঙ্কর্ষণ

 

 দেহ বড় দীর্ঘ সময় ।

 

দেহের গায়ে হাত রেখে -  

আজকাল তাকে ভালোবাসার কথা বলি ।  

 

৬৩। প্রিয় বান্ধবী

 

তাকে আজ ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে

ভালোবাসার কথা বলে ফেলেছি ।

 

৬৪। রাত্রি

 

অন্ধকার কুয়োতে স্নান করতে এসে

কেঁদে যায় – নারী

হে রাত, লজ্জা দিও না ।

 

বিবস্ত্র আমি ।

 

৬৫। যাত্রা

 

এ যাত্রার কোনও শেষ নেই –

রাধা যখন ছুটে যায় কৃষ্ণের দিকে

 

৬৬। রাধা – ২

 

বাঁশির শব্দ শুনে বাইরে এসে মনে হল –

আমি তো সে রাধা নই,

মরমে বাঁশির শব্দ বিঁধিল কেবল!

 

৬৭। মা

 

আমি যখন আমার ক্লান্ত স্ত্রীর চুলে বিলি

কেটে ঘুম পাড়িয়ে দেই

তখন বারবার মা-র কথা মনে পড়ে ।

 

এরকম একটা পরিতৃপ্ত জীবন তো তারও হতে পারত!  

 

৬৮। দাম্পত্য – ১৩

 

ভালোবাসার ছোটো ছোটো কথাগুলো   

বাড়তি লতার মতো ঝুলতে ঝুলতে মাটিতে পড়ে গেল ।

 

তুমি একবারও তাদের গায়ে হাত বোলালে না ।  

 

৬৯। সংকট

 

তোমার মুখে রাগের কোনও চিহ্নমাত্র ছিল না

তবু, বোঝা গেল, ভালোবাসা কমে আসছে ।

 

৭০ ।  আশ্রয়

 

তোমার কাছে এলে, গাছের কথা খুব মনে পড়ে,

 

 ক্লান্ত পথিকের মতো আমার  বড়ো ঘুম পায়।  

 

 

৭১। দাম্পত্য – ১১

 

শুধু দুঃখ রাখার জায়গা পেলাম না

আর সবই পেলাম তোমার কাছে ।

 

৭২। দাম্পত্য –১২ 

 

সম্পর্কের  এত ভিতরে ঢুকে গেছে শরীর

নাড়া দিতে গেলে ব্যথা পাই

দাঁড়িয়ে থাকলে চলে না জীবন।

 

৭৩। পুনর্মিলন

 

আমাকে নিশ্চিন্ত, দীর্ঘ একটা কান্না দিকে

এগিয়ে যেতে দাও ।

ভালোবাসার এত কাছে আসিনি বহুদিন ।

 

জিভে লেগেছে আজ কান্নার স্বাদ ।

 

৭৪। আলিঙ্গন  

 

বাঁশঝাড়ের ছায়ার মতো তোমার দেহের নিচে এলে

আমার ঘুম পেয়ে যায় ।

এত শীতল!  

বিন্দুতে সিন্ধুর আস্বাদ ।

 

৭৫। যাত্রা

 

কাল সারারাত স্বপ্নের মাঝে পুরনো বাড়ি ।

দরজা নড়েছিল একা একা ।

 

 

৭৬। হাহাকার

 

শূন্য বাথটব ঘিরে রক্তের ছড়াছড়ি

শুধু শরীর ছিল বলে – এই অপমান ।

 

৭৭ ।  সহমর্মিতা  

 

অসুখী মানুষ দেখলে –

আমি অসুখের মতো আমার সুখটাকে লুকিয়ে ফেলি ।

 

৭৮। বাসর-বেদনা

 

তুমি ছুঁলে না বলে, খোঁপাতে গিঁথে   রাখা ফুল

ঝরে পড়ল না বিছানায় ।

বেদনায় রাঙানো মুখ

 বঁধু, লুকালো হাসির ছলনায়

 

৭৯ । যুদ্ধ -২

 

কে জানত – যুদ্ধের ওপারে এত কথা ছিল ।

 

শত্রুর প্রেমিকাও জেগেছিল সারা রাত ।

 

৮০ । ১২তম বিবাহ বার্ষিকী

 

শ্রমিকের মতো ভালবেসে যেতে হল এতটা বছর

সুখ তো পেলে না তুমি ।

 

এই নাও দুশো টাকা

চলো, আজ পুরো রাত শুধু কথা বলি ।

একটা আড়াল যদি থাকে, থেকে যাক

হৃদয়ের অন্য দরজাগুলো খুলি ।

 

৮১। কাঁথা

 

কাঁথার গায়ে কান্নার কোনো দাগ নেই ।

তবু, কাঁথা জানে –

মা, কাল কেঁদেছিলেন সারারাত নীরবে ।

 

৮২। আত্মদর্শন

 

একদিন অবহেলায় যে থুথু উপরের দিকে ছুঁড়ে দিয়েছিলাম,

আজ তারই অপেক্ষায় বসে আছি ।

 

৮৩। প্রিয় বান্ধবী -৩

 

তোমার দিকে অবারিত ছুটে যেতে ইচ্ছে করে বারবার ।

ইচ্ছে করে তোমাকে ছুঁই !

তোমার কাছে এসে আলতো করে বলি ঃ

‘জানো, কাল বেদনার ভিতরে ফুটেছিল একগুচ্ছ ফুল

 

৮৪।  বেদনার নোঙর

 

সারাদিনমান এত যে হাঁটি,

তারপরও বেলাশেষে মনে হয় –

কোথায় যেন গাছের মতো দাঁড়িয়ে আছি ।

 

৮৫।  নীরবতা

 

তোমার কথা মনে হলে এই গাছটার কাছে চলে আসি ।

গাছের মতো ভেঙে পড়ি নীরব কান্নায়

শেকড়ের কান্না শেখড়ই কেবল জানে ।  

 

৮৬। বিচ্ছিন্নতা

 

এক ফোঁটা গড়িয়ে পড়া কান্নার দিকে

দ্রুত তাড়া করে নেমে আসছে আরেক ফোঁটা কান্নার জল ।

 

আমাকে একা রেখে তোমার এই দূরে সরে যাওয়া

আরও সুন্দর এবং মহৎ হতে পারতো!

 

৮৭।  শ্মশান যাত্রা

 

ফুল কোনদিন কাঁদে না ।

কেবল কান্নার গায়ে গায়ে  নিরুপায় হেঁটে যায় ।

 

৮৮।  দাম্পত্য – ৩০

 

বিড়ম্বনা এই, তারপরও তাকে ভালোবেসে যেতে হয় !

 

৮৯। আত্মকথন

 

গায়ের সুতি গেঞ্জিকে পাপোষ বানিয়ে নিয়েছি ।

 

আজকাল নিজের বুকের উপরেই

নিজের পা ঘষাঘষি করি ।  

 

৯০। প্রিয় বান্ধবী – ৩

ফুলের পাপড়ির মতো

হাতের মুঠো খুলে দিলে তুমি,

অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকলাম- সৌন্দর্যে ভরপুর

ভিতরে রিক্ত শূন্যতা ।

 

৯১। নিবেদন

 

তার নির্বাক চোখের সামনে

আমি একপ্রকার অপ্রস্তুত ।

 

এভাবে কী কেউ ভালোবাসার কথা বলে!  

 

৯২। প্রিয় বান্ধবী – ৫

 

তুই শ্রাবণীর কথা জিজ্ঞেস করেছিলি !

 

আজ অফিস থেকে ফেরার পথে, দরজায়

হেলানো মোমবাতির মতো দেখে এসেছি তাকে ।

 

৯৩। সংকট

 

রমণ শেষে তার পিঠে আঙুল দিয়ে

লিখে দিয়ছিলাম –‘ ভালোবাসি না।’

এবার সে আমার পিঠে তার তীক্ষ্ন নখ ছোঁয়ালো ,

এবং একে একে লিখে গেল –‘কেন জানি, আমিও না’

 

এভাবেই  আমাদের বিবাহবার্ষিকীর রাত গড়ালো

আমরা কেউ কারও লেখা বুঝেও বুঝলাম না ।

 

৯৪।  আত্মঘাতী

 

নিজের ছায়ার গায়ে লাথি মেরে দেখেছি,

বড় কষ্ট গো তাঁর বুকে ।

৯৯। দীঘলবাঁক

 

তোমার চুলের দীঘলবাঁকে হেঁটে যায়

কার এত নিস্তব্ধ কথা ।

 

এত নীরবেও বুঝি ভালোবাসা যায় ?

 

১০০। মুখ-মুখোশ

 

কেন যে বারবার জীবনের বাহানা দিয়ে নিজেকেই ঠকাই!

 

১০১ । ব্যাটলিয়াংশিপ

 

তোমার ঠোঁট আমার সেই কাঙ্খিত টং-ঘর

তোমার বক্ষরক্ষা, আমার দশ আঙুলের অভয়ারণ্য   

তোমার মুখ আমার সেই কাঙ্খিত মেঘাচ্ছন্ন আকাশ,

আর তুমি আমার জম্পুই ।

 

শ্রাবণী, আমি আমার বেঁচে থাকার পুণ্যভূমি পেয়ে গেছি ।  

 

১০২।  সম্পর্ক – ২

 

তুমি আমার উপর রেগে আছ জানার পর থেকে

একটু শান্তিতে আছি ।

 

সম্পর্ক গাঁথার মতো একটা সূত্র তো পাওয়া গেল !  

 

১০৩। সম্পর্ক – ৩

 

এ-চুম্বনের কী মানে ? যে চুম্বনে শুধু ঠোঁট ভিজে !

 

স্নান শেষে কবরী বেয়ে অবহেলায় বেদনার যত জল পড়ে ।  

 

১০৪ । ভালোবাসা – ৫

 

ভালোবাসা ! ভালোবাসা ! ঘুমাতে দিলে না রাতে ।

 

প্রতিবার অবিশ্বাস ভেদ করে দূর্বা ঘাসের মতো

জেগে ওঠো, দেহের আনাচেকানাচে ।

 

১০৫। সম্পর্ক – 

 

প্রতিদিনই বাড়ি ফিরি,

তবু  কেন জানি মনে হয় –

ঘরে ফেরা হয়ে ওঠে না কতদিন !  

 

১০৬। নিজস্ব নারী

 

সেও এক বহমান নদী

তার বাঁক বুঝে ওঠা মুস্কিল

এই হাসে ।

এই কাঁদে ।

পরক্ষণে চুমুর বাহানায় পরমান্ন তুলে দেয় ঠোঁটে ।

 

১০৭ । ভালোবাসা – ৭

 

প্রণামের ভঙ্গিমায়  বুকের সৈকতে ডুবিয়ে

দিয়েছিলাম  পুরো হাত ।

কী অপূর্ব বৈভবে পরিপূর্ণ –

 

বাড়ি ফিরে দেখি, হাতে আসে-পাশে

 

কেবল তাঁর কান্নার ছড়াছড়ি।  

 

১০৮। শ্রাবণী

 

তোমার দেয়া চিঠিগুলো এখনও আগলে রেখেছি ।

তাদের গায়ে হাত দিলে,

এখনও তোমার গায়ের গন্ধ নাকে ভেসে ওঠে ।

 

ঘাসের মতো নরম ।

ফণা তোলা সাপের মতো মায়াবী ।

 

১০৯।  মা- ২

 

কাল সারারাত গাছের মতো কেঁদেছি।

সকালে মেলেছি আবেগমাখা পাতা ।  

 

১১০ । আলিঙ্গন

 

সখা, উত্থানে সুখ আছে জানতাম ।

আজ প্রথম জানলাম, পতনেও এত সুখ ।  

 

১১১। নোঙর-২

 

বুকের গভীরে দু-একটা কথা

হঠাৎ বৃষ্টির আড়ালে কচি পাতার মতো উঁকি মারে ।

আমি তখন নিঃশব্দে আপনার ওড়নার পাশে –

বুকের কথাগুলো শেকড়ের মতো সীমানা ছাড়িয়ে দেহ স্পর্শ করে ।  

 

১১২ ।  মুখোশ- ২

 

শরীরের খুব কাছে গিয়ে দেখলাম

ওখানে শেষ পর্যন্ত অ-প্রেম ছাড়া কিছু নেই ।  

 

১১৩। ঠিকানা

 

অনন্ত দূর থেকে এসে তাঁর হাতে হাত রাখতেই

ঝরা পাতার মতো ঝরে গেল সে ।

বুকের ভিতরে  ধ্বনিত হল মর্মর ধ্বনি –

 

‘ঐ দেখো, আমরা বাড়ি করেছি।’   

 

১১৪।

বাথটবে শুয়ে জল ঢালতে ঢালতে  হঠাৎই

কেঁদে ফেলল সে ।

 সেদিন কী হয়েছিল তাঁর সাথে ?

গালের কাছে আসতেই হাউ হাউ কেঁদে উঠলো সে !  

 

১১৫। কামনা  

 

যে- শরীর ছুঁয়ে দেখবো বলে, একদিন

পাগল হয়ে গিয়েছিলাম,

আজকাল তাকে দেখলে ভয় পেয়ে যাই ।

 

চোরাবালির মতো এক ভয় ।

 

 

 

১১৬। আশ্রয়  

 

ঘাসের বাঁকে বাঁকে ঘাস যেমন হেঁটে যায়

দেহের ভাঁজে দেহ যেমন

 ঠিক তেমনই একদিন আমিও

রিফিউজি লতার মতো অবহেলা সইতে সইতে

ছুঁয়ে ফেলবো আমার উদ্দিষ্ট দুয়ার ।

 

১১৭। শ্মশান-যাত্রা

 

চোখ ভরে এলো জলে, তবু যদি কাঁদা যায় ?

মানুষটার আজ এমনই স্নানের তাড়া,

এমনই তাড়া বাইরে বের বেরোবার-

না, জড়ানো গেল

না, বুকে জড়িয়ে কাঁদা গেল বিদায় বেলায় ।  

 

১১৮।  মাধবীর আত্মকথা – ১

 

মাধবীর মতো কে কবে জেনেছিল

বুকের সেফটিপিনই আসলে তার মূল ঘাতক ।

 

১১৯ । ডল-হাউস  

 

দীর্ঘ সহবাসের ফাঁকে কবে যে আধুলির মতো

ভালোবাসা হাত ফসকে মাটিতে পড়ে গেল

টেরই পেলাম না ।   

 

১২০ । মাধবী – ২  

 

তাঁর দিকে তাকাই ,

আবার তাকাই –

 

সব এঙ্গেল থেকেই একটা বন্ধ জানালার আভাস পাই ।   

 

১২১।   শূন্যতা

 

এইমাত্র যে দীর্ঘশ্বাস ফেললাম,

তার ভিতরে কোড-ওয়ার্ডে একটা উপন্যাস লুকানো আছে ।

 

১২২। সুখ-অসুখ

 

তার আর আমার মাঝে একটাই পার্থক্য

আমি সাপ দেখার মাঝে খুঁজে পাই সুখ

 

আর সে সাপের ভিতরে খুঁজে পায় আমার যত অসুখ ।

 

১২৩। বাতায়ন

 

আজকাল আমিও টের পাই আলিঙ্গনের ভিতরে

ঝুলে রয়েছে বন্ধ একটি জানালা ।

 

১২৪।  শীৎকার

 

মাঝে মাঝে ভয়ানকভাবে প্রবল হয়ে ওঠে

রাত্রির চাপা  ফিসফাস ।

আমি ভয় পেয়ে যাই

আমার শ্বাস কষ্ট হয় ।

একই ঘটনার এ-প্রান্তে সুখ, ও-প্রান্তে অসুখ ।

 

১২৫। প্রাক্তন

 

আজ আর কোনো  বেদনার কথা বলো না প্রিয়

বরং একটা চুম্বন দাও মৃত্যুর মতো

 

১২৬। ঘুড়ি

 

ভালোবাসার ছুঁই ছুঁই দূরত্ব থেকে

ঘুড়িটা হঠাৎ উড়ে গেল।

মুহূর্তে মনে হল ভিতরের পাখিটা বুঝি

আর বেঁচে নেই ।  

 

১২৭ । সম্পর্ক – ১২

 

আজকাল আমিও টের পাই  আমাদের আলিঙ্গনের ভিতরে

ঝুলে থাকে একটা বন্ধ জানালা ।

 

 

১২৮। ঘুম বাথটব   

 

একসময় আবার একা হয়ে যাই।

 খোঁপা খুলে বাথটবে  নিঃস্ব হয়ে  ঘুমাই।

 

১২৯ ।  দেহলতা 

 

বাথটব থেকে আজ উঠতে চাইছে না শ্রাবণী ।

জলে রক্তের  দাগ!

ঠোঁটের গভীরে  অব্যক্ত  ব্যথা।     

 

১৩০ । বাহক

 

নদীর মতো বহন করে চলেছি –

একদা যে ভালোবেসেছিল 

আর

আজ যে ভাসছে না ভালো ।

 

১৩১। সিদকা / ২

 

এত প্রত্যাখ্যানের পর আবার এসে কেন দাঁড়ালাম তোমার সামনে ?

 

আরও প্রত্যাখ্যাত

আরও দহন চায় এ-হৃদয়!

 

১৩২ । মশারি

 

আজকাল ঘুম আসে না ।

নিঃসঙ্গ যাপনের বিচরণে তুমি ।

 

১৩৩। উচাটন

 

মোবাইল মুঠো করে

ভিতরে নির্জনতার উচাটন শুনি ,

ক্যালেণ্ডারের পাতাটা উলটানো হয়নি বহুদিন ।

সিদকায় বসে আছি

দীর্ঘকবিতার শেষ লাইনে হঠাৎ যদি চলে আসো তুমি ! 

 

১৩৪। শীৎকার - ২

 

মিলনের যাবতীয় পরিভাষা শেষে

তুমি টেরই পেলে না

একটা দীর্ঘশ্বাসও বেরিয়ে ছিল

বুক ফেটে রাতের অন্ধকারে    

 

১৩৫। মধ্য রাতের কবিতা / ২

 

রাতের অন্ধকারে কাপড় খোলার  নিশ্চুপ মরমিয়া ধ্বনি ,

সে বড় করুণ

সে বড় নিবেদিত প্রাণ ।

 

১৩৬। দাম্পত্য- সংকট – ২ 

 

আমি মশারির ভিতরে

মশা দেখলেই মেরে ফেলি ।

 

কেবল তোমার গালে মশা দেখলে

না-দেখার ভান করে ঘুমিয়ে পড়ি।

 

১৩৭।  খাট 

 

লেপতোষকের আড়ালে কত গোপন প্রেম যে থেকে যায়,

থেকে যায় রাতের অন্ধকারের কত অসহায় চাউনি!  

 

আজ তুমি নেই

অথচ  বেঁচে আছি আমি !

 

১৩৮। বিন্দুপতন

 

একটা বিশ্বাসের পাশে আরেকটা বিশ্বাস   

একটা স্বস্তির প্রশ্বাস ছুঁয়ে গেল আরেকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস

এরচেয়ে গভীর প্রেম আর কী হতে পারে! 

 

১৩৯। পরম্পরা

 

অনাদির বাহকের মতো আরও এক বাহক রেখে গেলাম

তোমার কোলে ।

 এরচেয়ে বড় উপহার আর কী দিতে পারি তোমাকে ? 

 

১৪০ । মধ্য রাতের কবিতা / ৩

 

এইমাত্র তার হাতের আঁকড়ে ধরাটা পরম স্নেহে শিথিল হল

একটা স্নিগ্ধ সময়

পরম মমতায় আমাদের ছুঁয়ে গেল।

 

 

 

১৪১ । মধ্য রাতের কবিতা / ৪

 

দেহের ভিতর তখন যেন  ঈশ্বর নেমে আসেন

আর তাঁর  করুণা বর্ষিত হতে থাকে শরীরময় 

 

 

১৪২। বিরোধ

 

পিতার সাথে বিরোধ আজীবনের

আর তাঁকে জড়িয়ে কাঁদতে না-পারার আফসোস জন্মান্তরের ।

 

১৪৩ । তামাসা 

 

দুঃখগুলো  আজকাল বড় উল্লাস চায় ।

আমি তাকে বেশ্যাপাড়ার গলির মুখে ছেড়ে দিয়ে –

শরীর নিয়ে চুপচাপ চলে এসেছি ।

 

১৪৪। অবিশ্বাস

 

বার কয়েক তোমার চোখের নোনা জল খেয়ে দেখেছি

কোথায় যেন বড় চতুরতা লুকিয়ে রেখেছো তুমি ।

 

 

১৪৫।  স্বস্তি

 

প্রতিরাতে  যাদের নিঃসঙ্গ ঘুমাতে হয়  তারা কত অসহায় ।

আর তারা কত সহায় যারা নিজের সাথে

নিজেকেই জড়িয়ে ঘুমায় ।

 

১৪৬। ব্রহ্মমুহূর্ত

 

দুইটি দীর্ঘশ্বাস মিলে আজ যে ইতিহাস রচিত হল

তার সামনে শরীর নেহাতই বড় তুচ্ছ !

 

১৪৭। চুম্বন

 

এক এক সময় মনে হয় তোমার বুকের উপর

কালবৈশাখীর মতো ঝড়ে পড়ি

 

এক এক সময় মনে হয় কেঁদে যাই    

অশ্রুর মতো

 

 

 

 ১৪৮ ।  ** স্বার্থপর

 

শ্রাবণীর নখ আমার পিঠের উপর  যখন চূড়ান্তভাবে ব্যস্ত

ঠিক তখনই চোখের সামনে ভেসে উঠল,

চিতায় শুয়ে থাকা বাবার নির্বিকার মুখ 

 

আমি  আরও প্রগাঢ় চুম্বনে নত হয়ে পড়লাম ।

সামনে তখন দাউদাউ আগুন

 

 

 

  ১৪৯    

 

** মাধবী

 

টবের গাছের পাতাগুলো যখন শুকিয়ে হলুদ হয়ে আসে

তখন হঠাৎ মনে পড়ে, ‘আরে! গাছগুলোতে জল দিইনি কতদিন !’ 

সাথে সাথে জল নিয়ে আসি,

জল ঢালতে ঢালতে নিজেকেই যেন দেখি !

 

মাধবীর কথা ভাবি -

আমার জমা রাখা চুম্বনগুলো আগামীজন্মে ফেরত দিস্  

 

 

১৫০ । দীর্ঘশ্বাস

 

মিথ্যে ওর্গাজম শেষে এক  ফোঁটা দীর্ঘশ্বাস  রেখে আসি

তার কাঁধে !

 

 

 

  ১৫১।  আশ্রয়        

আমার জীবনের সব গোপন কথা তাকে বলেছি

যাকে বলার কথা জীবনে কল্পনাও করিনি ।

 

 

 

১৫২ । শীৎকার – ২

উত্তেজনার চরম মুহূর্তে

আমি যখন জেসিবি মেশিনের মতো

খাবলা মেরে বুকের ভিতরে খাবলে ধরি তাকে, ধরেছিলাম তাকে

সে আনন্দ-উত্তেজনায় দিশেহারা হয়ে চিৎকার

করে উঠলো – আঃ অনন্য ...

 

অথচ আমার নাম কসমিন কালেও অনন্য ছিল না 

 

 

   ১৫৩ । ভালো আছি  

আমি আজকাল ভালো আছি

নখের ভিতরে তোর স্মৃতি

খোঁপার অন্তরালে তোর গোপন চুম্বন

আমি আজকাল ভালো আছি

 

তোমার থেকে দূরে - 

অন্য কারও খোলে ... 

 

 

 

 

১৫৪।

 

আমি আবার তোমার ঠোঁটে ঠোঁট রাখতে চাই প্রগাঢ়ভাবে

কিন্তু ভালোবাসার  কথা আর তুলিস না ।

উদাস বিকেলে  যখন মায়ের কথা মনে পড়বে –

তখন আবার তোর বুকে মাথা রেখে কাঁদতে চাইবো ।

 

তখনও তুই ভালোবাসার  কথা  তুলিস না ।

 

 

১৫৫ ।

** যাপনকথা **

 

সে যখন আমার দিকে তাকায় না

আমি তখন তার দিকে আড় চোখে তাকিয়ে থাকি

আবার আমি যখন চোখ বুঝে থাকি

 সে তখন আমার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে ।

এভাবেই আমরা আমাদের ঘৃণা, বিস্ময়, ভালোবাসা -- 

একে অন্যের থেকে লুকিয়ে রাখি ।

 

 

১৫৬ ।

 

 চুম্বনের এঁটো দাগ এখনও রয়ে গেছে গালে

কেবল তুমি নেই ।

 

তুমি নেই ।

 

 

 

 

১৫৭ । কান্না

 

তার শূন্যতায় হাত রেখে আমি প্রায়ই কেঁদে ফেলি!

তার পিঠে পরম মমতায় এঁকে দিই নদী।

পেটে এঁকে দিই শীতল একটা ঢেউ ।

তারপরও সে কাঁদে ।

 

আমার বুক ভিজে যায় তার কান্নায় ।

 

 

১৫৮

 

 

 ১৫৯।     পরকীয়া

 

লাবণি আমার ঠোঁটে চুমু খেতে খেতে

চোখে জল নিয়ে বলেছিল

“তোমার আর হারাবার মতো কিছু রইল না !”

 

(আমি আমার সর্বস্ব অন্য কারও হাতে তুলে দিয়েছি  )     

 

১৬০ ।

দুপুরে মায়ের পাখার বাতাসের মতোই স্নিগ্ধ তোমার ভালোবাসা।

মায়ের ধমকের মতোই তীব্র তোমার

দাঁতের কোনো কোনো আঁচড় ।

 

মায়ের প্রেমিকের মতোই নির্দয় তোমার

কোনো কোনো ঘাতক অবহেলা ।

 

১৬১ ।  সম্ভোগ 

 

তার শূন্যতায় হাত রেখে আমি কেঁদে ফেলি!

পরম মমতায়  পিঠে এঁকে দিই নদী।

 

তারপরও সে কাঁদে ।

আমার বুক ভিজে যায় তার কান্নায় ।

 

১৬২ । দ্বিধা

দরজা খোলার আগের শেষ সিঁড়িতে থমকে দাঁড়ায় এক জোড়া নগ্ন পা ।

সব নিঃস্বতার ভাষা হয় না ।  

 

১৬৩ । প্রতিহিংসা

আজকাল ক্ষতের সঙ্গে ক্ষত-ক্ষত-খেলেই দিন কাটাই ।

ক্ষতের কান্না থেমে গেলে, খাবলে খাবলে আবার তাঁর রক্ত ঝরাই ।

 

 

 

 

 

 

No comments:

Post a Comment

অরণ্যের নির্জনতা, ধান ক্ষেতে রঙীন শোভা, মাদলের শব্দ এর মধ্যেই আমি এখনও ডুবে আছি' ‎

  'অরণ্যের নির্জনতা, ধান ক্ষেতে রঙীন শোভা, মাদলের শব্দ এর মধ্যেই আমি এখনও ডুবে আছি' ‎ ‎সত্তর দশকের উন্মাদনায় এক ভিন্ন উচ্চারণ-ভঙ্গ...