ক্যানভাসে গ্রামবাংলা বেছে নেওয়ার কারণ
সম্পর্কে সমর মজুমদার বহু আগেই বলেছিলেন, “আমার
স্নেহ, অনুরাগ, প্রতিবাদ বা
দুঃখের অনুভূতি-সবই বাংলাদেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। আমার অন্তঃসম্পর্ক অনেক
সাধারণ ও জীবন্ত, যেটা আমি আমার ক্যানভাসে ধারণ করি এবং
বিশ্বাস করি এটি দর্শকদের জন্য বোধগম্য হবে।” আমি প্রথম
দিনই চিত্রী সমর মজুমদারের ছবি দেখে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যাই । এত চেনা। এত কাছের, এত
আপন মনে হল ছবিগুলোকে। এরপর বাংলাদেশের
আরেক প্রখ্যাত শিল্পী চারুপিন্টু- দার সহায়তায় শিল্পীর সাথে যোগাযোগ তৈরি করি । এবং এক
পর্যায়ে সাক্ষাৎকার নেয়ার বাসনাটা ব্যক্ত করি ।
শিল্পীও তাঁর অমায়িক ব্যবহারে আমাকে কাছে টেনে নেন সহজেই। এতে আমার খুব সুবিধা হয়
। আমার ইচ্ছেটাও পূর্ণ হয় । সাক্ষাৎকার দেবার জন্য ধন্যবাদ স্যার।
“সরলতা ছাড়া বৃহত্তর বাংলা
জনগোষ্ঠির জীবনধারাকে ফুটিয়ে তোলা অসম্ভব।”
প্রশ্ন ঃ আপনার
ছবিতে বাংলার বিচিত্র জীবন চিত্রিত হয়ে থাকে তার নানা অবর্ণনীয় রূপ-সজ্জার অপার সৌন্দর্য
নিয়ে। আপনি
নিজেও বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের শিল্পী বাংলার ছবি আঁকি’। আপনার এই দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে
উঠার প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রথমেই কিছু জানতে চাই।
উত্তর ঃ আমি বাংলার লোকসংস্কৃতির
এক মায়াবী আবহে বেড়ে উঠেছি । আমার শৈশবের একটা বড় সময় কেটেছে নানা পূজা-পার্বণে
আয়োজিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের স্বাদ-আস্বাদনে। গান-নাটক- ছবি আঁকা এ-সবের মধ্যে দিয়েই
বড় হয়েছি । স্কুলের সময়টুকু বাদ দিয়ে সারাদিন কাটতো প্রতিমা
তৈরির শিল্পীদের সাথে । সারা বছর ধরে মায়ের জন্য ষষ্টি মা তার জন্য কালো বেড়াল, ধলা বেড়াল বানাতাম । টেপা
পুতুলের অবিকল নকল করতাম । ফরমায়েশ আসতো দিদিদের চুলা বানিয়ে দেবার জন্য । এভাবে
কখন যে সুন্দর আমার মনে বাসা বেঁধেছে জানি না । আমার অভিবাবকদের প্রশ্রয় ছিল । মনে
পড়ে ঘরের দেয়ালে কাচ বাঁধাই কিছু ক্রস স্ট্রিচের হাতের কাজ ছিল, যেমন- গোলাপ ফুল,
গৌরনিতাই এসব। গোলাপের পাশে লেখা ছিল ‘সুখে থাকো’ । একসময় জানলাম
এইসব আমার মায়ের বিয়ের আগের হাতের কাজ
। মা যখন গর্বভরে তাঁর কাজগুলো অতিথিদের
দেখাতেন, তখন গর্বে আমারও মনটা ভরে উঠতো ।
রুমালের কোণায়, বালিশে ছবি এঁকে দেবার
জন্য নানা অনুরোধ আসতো মায়ের কাছে । ক্রমে কখন যে মায়ের জায়গাটা আমার হয়ে গেল আজ
আর মনে নেই । আমি তোরঙ্গে আঁকা লতা, অর্ণামেন্টের প্রজাপতি, রিক্সা বা ট্রাকে আঁকা
ফুল চোখে বয়ে নিয়ে বাড়ি আসতাম কপি করার জন্য । পরিবারে অভাব ছিল । রঙ, কাগজের তখন
অনেক দাম। তাই কাঠ-কয়লা দিয়ে দেয়ালে আঁকতাম দেবী দুর্গা ও তার চালচিত্র আপন মনে
আমার মতো করে আঁকতাম।
একদিন হঠাৎ করে মনে হল, এতদিন আমি দৃশ্যমান যা কিছু দেখতাম সব স্বপ্নে দেখতাম। এখন কেমন
ত্রিমাত্রায় দেখছি । আমি গাছকে ছুঁয়ে দেখতাম । ঘরটাকে ছুঁয়ে দেখতাম । আমি এটাকে এক
নতুন খেলা হিসেবে পেয়ে গেলাম । রূপকথার গল্প আমাকে খুব ভাবাতো ।আমার কল্পনাকে
উস্কে দিত। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় অশ্বপিঠে রাজিয়া সুলতানার ছবি এঁকে সবাইকে
তাক লাগিয়ে দিয়েছিলাম । সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় পৌরসভার প্রার্থীর পোস্টার ও
ব্যানার আঁকার দায়িত্ব পাই ।এভাবেই ছবি আঁকতে আঁকতে আমার বেড়ে ওঠা । তখন আমার চোখে
রাক্ষসের মতো ক্ষুধা ছিল । প্রাকৃতিক দৃশ্য, বইয়ের ইলাস্ট্রেশন পাগলের মতো আমাকে টানত
।
প্রশ্ন ঃ ‘মৃত্তিকামায়া’
‘মা’ ‘ঘুম নেই’ ‘পিতা’ ‘ছায়া এবং সখি’ ‘কানাই’ ‘নকশিকাঁথা’ – আপনার ছবির
টাইটেলগুলোও বড় মায়াবী, মরমিয়া । আপনার
ছবির এইসব প্রেক্ষাপট অঙ্কনের দৃষ্টিকোণ
নিয়ে আমাদের কিছু বলুন।
উত্তর ঃ সেই অর্থে, এখানে
আমার দৃষ্টিকোণ খুব সহজ-সরল। তাই নামগুলোও
এমনই নির্বাচন করে থাকি। সাধারণ মানুষের ছবি সাধারণ আর্টের ভাষায় প্রকাশিত হবে,
এটাই আমি চাই । আমরা তো জানি, যা আঁকা
থাকে ছবিতে, বা যা লেখা থাকে কবিতায়, আর্ট কিন্তু সেখানে থাকে না । আর্ট থাকে তার
অন্তরালে। আর্ট এটাকে শুধু ভর করে থাকে। সরলতাই এখানে সবচেয়ে বড়
সম্পদ । আমার মনে হয়, সরলতা ছাড়া
বৃহত্তর জনগোষ্ঠির জীবনধারাকে ফুটিয়ে তোলা অসম্ভব । দুর্বোধ্যতা এড়িয়ে
যে-কেউ এখানে প্রবেশ করতে পারবে । গ্রহণ করতে পারবে ছবির স্বাদ, বিষয় । তার
মায়াময় প্রক্ষাপট। এরজন্য তাকে জহুরি হতে হবে না । জানতে হবে না, ছবির জটিল সব
পরিভাষা ।
প্রশ্ন ঃ আপনার ছবিতে পল্লীজীবনের একাকীত্ব, হতাশা,
মাড়ুলভাঙা পুরুষ বা নারীর ছবিতে খুব একটা দেখা যায় না। গ্রামীণ জীবনের
ক্লান্তি-দুর্দশাকে আপনি কীভাবে পর্যবেক্ষণ করে থাকেন? তাদের কান্না-বেদনা...
উত্তর ঃ স্মৃতি থেকে আঁকা আমার শৈশবের মানুষগুলি সততই সুখি মানুষ ছিল । দুঃখ
তো নিশ্চয়ই ছিল । কিন্তু তা আমি ভাবতে চাই না । পাকিস্তান আমলে বাঙালির লোকশিল্প
চর্চাকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়া হত না । আমার মধ্যে যা-কিছু বিকশিত হয়েছে তা
অনেকটাই আনমনে । লোকশিল্প ও ভারতীয় অভিজাত শিল্পকে আমি যেটুকু চিনেছি এবং মনে
প্রাণে গ্রহণ করেছি তা আরও অনেক পরে ।
আমরা লোক সংস্কৃতির অনেক কিছু হারিয়ে ফেলেছি । এখন বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে যাত্রাপালা হয় না। পুতুলনাচ হয় না । সরাচিত্র, রসেরহাঁড়ি, শীতলপাটি, নকশি কাঁথা, কত কিছুই তো আর হয় না । আমাদের যেভাবে চারুকলার শিক্ষা হয়েছে, তা মূলত পাশ্চাত্য শিক্ষা । কাজেই আমরা খুব স্বাভাবিকভাবেই অঙ্কন পদ্ধতি ও উপকরণে পাশ্চাত্য ধারাই গ্রহণ করেছি এবং সেভাবেই আমরা ছবি আঁকি ।আগেও বলেছি, বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি ব্যক্তিগতভাবে বেছে নিয়েছি বাংলা ও বাঙালিকে । বিখ্যাত চিত্র সমালোচক ও বিশিষ্ট বন্ধু মঈন উদ্দিন খালেদ বলেন – ‘ আমার ছবিতে ত্রিধারা বহমান।’ হেবেল সাহেব নাকি ভারতীয় শিল্পীদের পশ্চিমমুখী না-হয়ে নিজের মাটিতে দাঁড়াতে বলতেন । যার ফলশ্রুতিতে আমরা পেয়েছি অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল, রামকিঙ্কর, যামিনী রায়। পরবর্তীতে কামরুল হাসান, এস এম সুলতান প্রমুখ শিল্পীদের । আমি একটা সরকারি চাকরি পেলাম সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫-টা পর্যন্ত। লোকশিল্প সংগ্রহ এবং গবেষক শিল্পী কামরুল হাসানের পরিচালনায় এবং তার অধীনে চাকরি আমাকে খুব প্রভাবিত করে । সারাদেশ ঘুরে ঘুরে লোকশিল্প দেখা, সংগ্রহ করা এবং এসব নিয়ে পরে গবেষণা করার সুযোগ পেতাম । শিল্পী কামরুল হাসান ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালক। আমাদের এত প্রচেষ্টার পরও কিন্তু আমাদের দেশে পশ্চিমী ছবির প্রভাব এড়ানো যায় নি । পাকিস্তান আমলে নাকি জোর করে শিল্পধারাকে পশ্চিমীকরণের একটা সরকারি প্রচেষ্টা থাকতো । বাংলার আলো বাতাস, পরিবেশ, মানুষের পারস্পারিক সম্পর্ক ইত্যাদি গভীর মমতায় আমাকে টেনে ধরে। আমি নিশ্চল হয়ে বসে পড়ি এইসব ধারায় ।
প্রশ্ন ঃ আপনার গ্রামীণ ছবিতে আপনার কল্পনায় আঁকা একটা নিজস্ব গ্রাম দেখতে পাই । সেই গ্রামীণ জীবনকেই আপনি সাজান আপনার মতো করে । এ-ব্যাপারে আমাদের কিছু বলুন।
উত্তর ঃ আমি আমার ফেলে আসা সেইসব গ্রামকে ছবিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করি বারবারই। এখনকার গ্রামে কোনো
বাঁশের সাঁকো নাই । মাটির ঘর, লাঙল-জোয়াল, ঢেঁকি কিছুই নাই । বাধানো নদীগুলোকে আমার
কেমন যেন বড় আকারের নর্দমার মতোই মনে হয় । সেখানে কোনো পাল তোলা নৌকা চলে না । সব
যান্ত্রিক ইঞ্জিন । আমি আমার ফেলে আসা ছোটোবেলার গ্রামকে ভালবাসি, যেখানে দারিদ্র
হয়ত ছিল । কিন্তু তার পাশাপাশি মমতাও ছিল । আমার ধারণা এখনকার গ্রামগুলি আধুনিক হয়েছে হয়ত, কিন্তু সেই সাথে তাদের জীবনে জটিলতাও বেড়েছে
সমান তালে । এখন গ্রামে কোনো নাটক, যাত্রা, থিয়েটার,
কবিগান, গ্রামীণ মেলা কিছুই হয় না । কামার কুমোর তাঁতি এদের জীবন আজ বিপন্ন ।
শিল্প বিপ্লবের পরে সারা পৃথিবীতে যখন লোক সংস্কৃতির উপর বিপর্যয় নেমে এলো । তখন
এক শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানী চিন্তিত হয়ে পড়লেন তারা প্রস্তাব তুলেছিলেন গ্রামের
লোকসংস্কৃতির পুনঃজাগরণের । কারণ লোকসংস্কৃতি গ্রামের প্রাণ। এ-সংস্কৃতির
অনুপস্থিত মানে তাদের মনের আকাশকে অবরুদ্ধ করে রাখা । এর পরিণতি ভয়াবহ ।
প্রশ্ন ঃ এবস্ট্রাক্ট বা বিমূর্ত ফর্মের কাজ আপনার ক্ষেত্রে দেখা যায় না । এই ফর্ম নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত ভাবনা জানতে চাই। বিচ্ছিন্নতা, ভঙ্গুর সময়কে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করতে চাইবেন, আপনার ছবিতে ।
উত্তর ঃ বিমূর্ত ছবি বলতে কিছু নাই । যাকে আমরা বিমূর্ত বলি, আমার কাছে তা
ভাষার উপস্থাপনার ভিন্নতা মাত্র । কে তার
বক্তব্যকে কোন ভাষায় তুলে আনবে, সেটি শিল্পী নিজে নির্ণয় করবেন । অনেকে ঐতিহ্যকে আধুনিক
ফর্মে তুলে আনার চেষ্টা করছেন । আমার কর্মধারা সব সময় যে এর বাইরে ছিল তাও নয় ।
আমি দেখেছি, ঐতিহ্যকে তথা বৃহত্তর জনগোষ্ঠির জীবনধারণ, জীবনাচার, তাদের সরলতা,
মায়া, মমতা, প্রাণকে বিমূর্ততায় বা আধুনিকতায় ধরতে গেলে, কোথায় যেন সেটি তার মূল জায়গা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় । এতোটা
বিচ্ছিন্নতা আমি ইচ্ছে করেই চাই না ।
প্রশ্ন ঃ প্রচ্ছদ
নিয়ে আপনার দীর্ঘযাত্রা রয়েছে । ইদানিং প্রচ্ছদ কম করছেন লক্ষ্য করছি । আপনি কি
প্রচ্ছদ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন ?
উত্তর ঃ শুধু ছবি আঁকা দিয়ে বেঁচে থাকার কথা আজ থেকে চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর আগে
যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশে কেউ ভাবতেই পারতো না ।
সকাল ১০ থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত কাজের পর যেটুকু সময় পেতাম, এখন প্রচুর লে-আউট
করতাম । বুক-কাভারের অনুরোধ এলে তা থেকে কাজে লাগাতাম । দীর্ঘদিন ব্লক প্রিন্ট
পদ্ধতি চলার পর হঠাৎ করে ঝড়ের গতিতে পাল্টে গেল সব। তখন সারারাত জেগে
কম্পিউটার ঘাটাঘাটি করে ডিজাইন বদল করি, আর নিজে নিজেই
অবাক হই । এভাবেই একসময় ভীষণ জনপ্রিয় গেলাম।
প্রশ্ন ঃ অনেকে মনে করেন, প্রচ্ছদচিত্রের মাধ্যমেও
শিল্পসত্ত্বা প্রকাশ করা যায় । আপনি তার সাথে একমত পোষণ করেন ?
উত্তর ঃ না, এক্ষেত্রে বিনয়ের সাথে বলবো,আমি এক মত নই । প্রচ্ছদ এক ধরণের
চাহিদা ভিত্তিক কাজ। তাই এ-ধরণের কাজে এক ধরণের পরাধীনতা থেকেই যায় । যেমন –
আকৃতির সীমাবদ্ধতা, রঙের সীমাবদ্ধতা, সামর্থের সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি । মুদ্রণ যন্ত্রের
পারিপাট্যতা । তদুপুরি, যেহেতু
এটি একটি ডিজাইন, এর গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হয়। উদ্যোক্তার উৎকর্ষতার
বাণী, গ্রাহকের কাছে সচতুরভাবে পৌঁছে দেয়াই এর প্রধান কাজ । দীর্ঘদিন
প্রচ্ছদ-অলঙ্করণ শিল্পে কাজ করার পর, এক সময় সিদ্ধান্ত নিলাম, এখন ছবি আঁকাতেই মন
দেবো । যা একান্তভাবে আমাকে প্রতিনিধিত্ব করবে । সেই ভাবনা থেকেই ছবিতে পুরোপুরি
মন দিলাম ।
প্রশ্ন ঃ একই বঙ্গ ইতিহাসের নির্মমতায় আমরা
বিচ্ছিন্ন। ত্রিপুরার শিল্পীদের কাজ দেখা হয় ? কেমন লাগে আপনার ?
উত্তর ঃ দুঃখজনক হলেও ত্রিপুরার শিল্পীদের কাজ খুব একটা দেখার সুযোগ এখনও
হয়ে ওঠেনি। ত্রিপুরার চারু-কলা বিভাগের অনেক নামডাক শুনেছি । বাংলাদেশের প্রথিতযশা
শিল্পিরা বেশ কয়েকবার সেখানে আর্ট ক্যাম্পে অংশগ্রহণ ও প্রদর্শনী করেছেন । এই
ধরণের শৈল্পিক আদান-প্রদান খুবই প্রয়োজন । ফেইসবুকের কল্যাণে কিছু কাজ দেখি ভাল
লাগে ।






















No comments:
Post a Comment