Wednesday, June 19, 2024

রবীন্দ্রনাথের শেষ বয়সের প্রিয়া এবং ছবির নান্দনিকতা**

 


** রবীন্দ্রনাথের শেষ বয়সের প্রিয়া এবং ছবির নান্দনিকতা**

                       তমালশেখর দে 





চিত্রকর রবীন্দ্রনাথ জীবনের শেষ সতেরোটি বছর এঁকে গেছেন প্রায় দুই-আড়াই হাজারের অধিক ছবি। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উন্মাদনাকে তুলনা করেছেন আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের সঙ্গে এবং নিজেকে তুলে ধরেছেন প্রতিটি ধারায় সক্রিয় মৌলিকতায়। তাঁর ছবির বিকাশ যেভাবে হল, তা যেমন অভূতপূর্ব তেমনি তাতে যে সকল বৈচিত্র্য দেখা গেল তা সাধারণ কল্পনার বাইরে। তাঁর সেই পান্ডুলিপির সংশোধন গুলি যেন ছিল অজস্র জলদারা এক ঘেরা দ্বীপের সারি, দ্বীপগুলি কখনও বিচ্ছিন্ন, কখনও সাঁকো দিয়ে, বা সরু জমির ফালি দিয়ে জোড়া। ওই জলধারার মধ্যে যেন কল্পিত নৌকো তারার মতো ঝলমলায়। তাঁর সেই সাদৃশ্যযুক্ত আঁকাগুলি কখনও এক- একটা অতিকায় কল্পসম্ভব  বীভৎস জন্তুর মতো ঝলসে ওঠে, কখনও বা তাতে ঘনবনের আভাস আসে। মনে হয় যে এই সকল জীবজন্তু কত দীর্ঘদিন ধরে এই ধরণীতে রক্তমাংসের  কায়ায় জন্ম নেবার জন্যে কোনও কবির কল্পনার প্রতীক্ষায় ছিল। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা "নারীমুখ" আমাকে খুব টানে। সেই নারীমুখ আপনার চোখে কীভাবে ধরা দেয়, জানতে চেয়েছিলাম রাজ্যের কবি-চিত্রকর মিলনকান্তি দত্তের কাছে। তিনি বলেন -- " আমার ধারণা, প্রথাসিদ্ধ রংরেখার চিত্রকে কবি ভাঙছেন সুন্দরপানা মুখকেও বিকৃত করে দিচ্ছেন, এ ভাবনার অন্য ব্যাখ্যা আছে। তবু বলব, কবির আঁকা কিছু নারী মুখ, নারী শরীর রহস্যরেখার মায়ায় অবগুন্ঠনবতী। আবার এক বেপরোয়া ভঙ্গির উদ্ধত চিত্রণেও যেন তারা প্রথা ভাঙতে চায়। পুরুষ প্রাধান্যের সামাজিক অবস্থানে নারী আজও নির্যাতিতা। এর সামাজিক- রাজনৈতিক জটিল কিছু কারণ আছে, সবটাই জৈবিক নয় হয়তো। কিন্তু সমাজে তো প্রতিবাদের কণ্ঠস্বরও আজ তুমুল, বিশেষ করে নারী সমাজে এ নারীরা যেন রবীন্দ্রচরিত্রে নারীদের মতোই, কী বলব, বেপরোয়া, সাহসিনী!" রবি ঠাকুরের ছবির স্টাইল ভারতীয় সব পদ্ধতির ছবির থেকে আলাদা। এটা তো জানাই আমাদের সকলের যে,আমাদের দেশে তার প্রথমে গ্রহণ করেননি এখানকার রশিকরা। ওকাম্পোর আয়োজনে প্রথম প্যারিসে রবি ঠাকুরের ছবির প্রদর্শনী হয়। এবং ভারতীয় এক্সপ্রেশনিস্ট শিল্পী হিসাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পান। তাঁর অনেক দ্বিমাত্রিক ছবি তাঁর আকার গুণে ত্রিমাত্রিক রূপ পেয়েছে। রবীন্দ্রনাথের ছবি তাই দেখতে হয় গভীরভাবে। 

আমাদের রাজ্যের কবি-উপন্যাসিক- চিত্রকর অশোক দেবের কাছে জানতে চেয়েছিলাম -- " চিত্রকর রবীন্দ্রনাথকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ণ করে থাকেন? " উত্তরে একটু সময় নিয়ে তার স্বভাবসিদ্ধভঙ্গিতে বললেন --" মন। ইন্দ্রিয়কে বাজার করতে পাঠায় সে,  তারপর রান্না করে নিজেকেই খেতে দেয়। প্রকৃতি। নানা নিসর্গের বাজার খুলে বসে আছেন। দৃশ্যনিসর্গ, শ্রব্যনিসর্গ, ভাবনিসর্গ এমনকি অধ্যাত্মনিসর্গ। কবির মনের সংসার কাউকে বাদ রাখতে চায় না। উপকরণ সীমিত, শব্দ। সব ধরা যায় না। কলম রেখে, কোন কবি তুলি কিংবা ছেনি তুলে নেননি? রবিঠাকুরের ছবিতে, এমনকি শব্দের সাক্ষাৎও মেলে। ছবি আঁকতে শুরু করলে  নিকটবাসী শিল্পীরা তাঁকে কিছুটা ড্রয়িং শিখিয়ে দিতে চেষ্টা করেছিলেন। তিনি, স্বাভাবিক, সে গ্রহণ করেননি। কারণ, তিনি জানতেন, তিনি মনের পাকঘরে বসেছেন গৃহিণীপনা করতে, মিস্ত্রিগিরি করতে নয়।  সে কারণে, তাঁর ছবিতে মনের স্বাভাবিক উদ্ভাস দেখা যায়। সম্ভবত সামান্য বর্ণান্ধ ছিলেন,  রঙের ব্যবহারে তাঁর সুখ্যাত রুচিবোধ টাল খেয়েছে কোথাও। অথচ, কাগজের সাদা ছেড়ে দিয়ে কী অবলীলায় প্রায় মহাজাগতিক উদ্ভাস এনেছেন। নারীদেহ, চোখ চোখের দৃষ্টি সবেতেই একপ্রকার দূরগামিতা দেখা যায়। কবি মাত্রেই যে সুদূরের পিয়াসী। পাণ্ডুলিপির সঙ্গে যে বিচিত্র আঁকিবুঁকি করতেন, সেসবের মুক্তি রবিঠাকুরের রঙে এবং কিছু কিছু রেখায়। সুরে, গীতিতে, নৃত্যে এবং রচনায় যাদের পাননি, পাওয়া সম্ভব ছিল না, সে তিনি রংরেখায় পেতে চেয়েছেন, আমরা পেয়েছি এক যাদুজগতের সন্ধান।" 

রবীন্দ্রনাথ কবিতা রচনা সময় এক ধরনের অনুশাসন ও সংযমের মধ্যে নিজেকে বেঁধে রাখতেন,ছবি আঁকার সময় তিনি ততটাই মুক্ত করে স্বাচ্ছন্দ্যের শেষ সীমা পর্যন্ত অনায়াসে বিচরণ করে আসতেন। সত্যি অর্থেই তার এই কাজে না ছিল কোনো কায়দা, না কোনো নিয়ম। কেবল ছিল ছন্দ জগতে রেখার সঙ্গে লয়ের নিত্য। 

ত্রিপুরার সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং প্রখ্যাত চিত্রকর অভিজিৎ ভট্টাচার্য-- "আমার চোখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা ছবি" প্রসঙ্গে বলেন -- "'যেখানেই আলো-আঁধারি, আবছায়া সেখানেই রহস্য! আকুল জিজ্ঞাসা! কল্পনার পাখিরা সেখানেই ডানা মেলে!রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবির আলো-আঁধারি যেন রহস্যময়তার এক গহীন অরণ্য। আধো অন্ধকার পরিসরে কখনও স্থবির, কখনও চলমান ছায়া ছায়া মানুষ, গাছ, পশু, পাখিসহ বিচিত্র সব অবয়ব যেন রহস্যময়তাকে আরো গভীর থেকে গভীরতর করে তোলে।যে মানুষটি জীবনের সিংহ ভাগ সময় লেখায় রূপ নির্মাণ করলেন তাঁর নিশ্চয়ই জীবনের একটি পর্যায়ে এসে মনে হয়েছে, যে অরূপ রূপের নির্মাণ তিনি করতে চাইছেন সেই কাঙ্খিত রূপ শুধু শব্দের বুননে সার্থক ভাবে তৈরী হচ্ছে না। আর তখনই রং রেখার আলো-আঁধারি ও রহস্যময়তার বিস্তারে তাঁর হাত থেকে বেরিয়ে এসেছে একের পর এক অরূপ রূপের অপরূপ সৃষ্টি! তাঁর ছবি। রঙে, রেখায়, আকৃতিতে,সংরচনে অনন্য, অনবদ্য প্রতিটি নির্মাণ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে রঙ-রেখার এই রহস্যময় রূপ আমাকে বারে বারে সম্মোহিত করে, আচ্ছন্ন করে, তীব্র ভাবে আকর্ষিত করে....। তাঁর একই ছবি যত বার দেখি, প্রতিবারই সে-যেন নতুন রূপে আমার কাছে ধরা দেয়। এ যেন অপরূপকে খোঁজার এক অনন্ত আধার..."। রবীন্দ্রনাথের ছবির রেখার প্রসঙ্গে রাজ্যের আরেক বিখ্যাত চিত্রশিল্পী পার্থপ্রতীম গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর লিখিত প্রতিক্রিয়ায় মুম্বাই থেকে জানান --" পড়েছি আজ রেখার মায়ায়। রেখার মায়ায় পড়েই রবি ঠাকুর ছবিতে পৌঁছে ছিলেন।  শোনা যায়, একাকিত্ব থেকে মুক্তি পেতেই নাকি তিনি হাতে তুলি তুলে নিয়েছিলেন। ইউরোপের ছবির সঙ্গে ততদিনে তার পরিচয় হয়ে গেছে। অবনীন্দ্রনাথ, গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাজ দেখে চলে ছিলেন। কিন্তু অবাক করা কথা, নিজে যখন ছবি আঁকলেন,  তখন তাদের  কোনো প্রভাব তাঁর ছবিতে পড়েনি। এ-এক অন্য ছবি।ছবি যেন কিছু বলতে চাইছে। কিন্তু কোথাও একটা অদ্ভুত আদিমতা ছবিকে ঘিরে ছিল।রহস্যের প্রাচীর ভেদ করে যারা তার ছবি বুঝতে পারে, মননে মেধায় পারে, তারা তার প্রকৃত স্বাদ পায় ধন্য হয়। " 

প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী যামিনী রায়ের একটা লেখায় পড়েছিলাম, তিনি লিখেছেন --  "রবীন্দ্রনাথের আঁকা কোনো ব্যক্তির ছবি দেখলে মনে হয় না যে তারা নিজেদের মধ্যে গুটিয়ে যাচ্ছে বা বাতাসের ধাক্কায় ধাক্কা খাচ্ছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, পরিবর্তে, তাদের ভর এবং একটি মেরুদণ্ড রয়েছে। এই হাড়ের কাঠামো এবং তাদের নির্মাণের ছন্দের কারণে রবীন্দ্রনাথের চিত্রগুলি শক্তি অর্জন করে। আমার মতে, গত দুইশত বছর ধরে, রাজপুতদের সময় থেকে, আমাদের ছবি নির্মাণের ঐতিহ্যে একটা অভাব ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকে এবং রবীন্দ্রনাথ এর বিরোধিতা করেন; তিনি তার চিত্রগুলির জন্য একটি শক্তিশালী মেরুদণ্ডের সন্ধান করেছিলেন।"

 ত্রিপুরার সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা এবং প্রখ্যাত চিত্রকর মিতালী গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে রবীন্দ্রনাথের  ছবিতে নারী চরিত্রের উপস্থিতি এবং তার রহস্য নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জানান-- "রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবির নারীরা অদ্ভুত রহস্যময়ী। আধো অন্ধকারের আড়ালে থেকেও সম্মোহিত করে তীব্র ভাবে। রবীন্দ্রনাথ এক প্রখর ব্যক্তিত্ব। স্বাভাবিক ভাবেই তাকে প্রভাবিত করতে পারেন অন্য কোন প্রখরতা। সেজন্যই বোধহয় আমরা দেখি যে-সব নারীচরিত্র তার কাছাকাছি আসতে পেরেছেন তারা সবাই স্বতন্ত্র অস্তিত্বের অধিকারিনী। সেই সব নারীদের বা তার কল্পনার নারীদের যে ছবি তিনি এঁকেছেন স্বাভাবিক ভাবেই তাদের উপস্থিতি গভীর এবং প্রখর। অন্ধকারের মধ্যে থেকে ফুটে ওঠা কোনো মুখ, যা কখনও দেখা যায় বা কখনও সম্পূর্ণ দেখাও যায় না, কখনও কোনো অবয়ব যেন আপন খেয়ালে নৃত্যরতা সবই যেন কেমন সম্মোহিত করে।তিনি এঁকেছেন বিমূর্ত করে কিন্তু তারা সবাই চেয়ে থাকে, কচ্চিৎ স্মিত হাসে, কিছু বলে উঠতে চায়। কখনও কয়েকজন একসাথে বসে যেন পরস্পর ছুঁয়ে থাকে একই সত্তার বিভিন্ন রূপের মত। কিন্তু আশ্চর্যভাবে তারা সবাই খুব বিমর্ষ। এত প্রখর উপস্থিতি সত্ত্বেও।"

 "

     রাজ্যের আরেক বিখ্যাত চিত্রশিল্পী জয়ন্ত ভট্টাচার্যের কাছে জানতে চেয়েছিলাম --  "রবীন্দ্রনাথের ছবির কোন বৈশিষ্ট্যটা এখনও আপনাকে ভাবায়?  ভাবতে বাধ্য করে?" উত্তরে বললেন --"তুমি কি কেবলি ছবি /শুধু পটে লিখা? ঐ যে সুদুর নীহারিকায় যারা আকাশের নীড় করে আছে ভীড়"-- রবীন্দ্রনাথের ছবি  কোনো পটে বাঁধা ছিল না। রবীন্দ্রনাথ তাঁর গানে বোধহয় অনেক বেশি মানুষের অনুভূতিকে ধরতে  পেরেছেন।   সেই যে পট ছেড়ে সুদূর নীহারিকা য় তাঁর  ভাবনা সঞ্চালন করল, এখানেই তো চলে আসে রবীন্দ্রনাথের সেই  বিশাল এবং সেই ব্যাপককে অন্তরে উপলব্ধি করার তাড়না। , চোখের আলোকে চোখের বাইরেই দেখতে হবে ,এগুলো রবীন্দ্রনাথ কাব্যে বলেছেন।  সঙ্গীতেও বলেছেন।  বলেছেন ছবির ক্ষেত্রেও।  আমরা দেখতে পাই বর্ণের সাবলীল এবং বলিষ্ঠ উপস্থাপনা। তাঁর  আঁকা প্রায় সমস্ত ছবিতে আসে এক পড়ন্ত বেলার আলো। রবীন্দ্রনাথের ছবির সরলীকরণ এবং স্পেসের যে একটা খেলা তা আমাকে অনুপ্রাণিত করে এখনও।আরেকটা কথা  না- বললেই নয়,  রবীন্দ্রনাথ যখন একেবারে উত্তর আধুনিক বা আধুনিক যাই বলি এই প্যাটার্নের ছবি আঁকা শুরু করলেন তখন কিন্তু ইউরোপীয় দেশগুলোতে কারা ছবি আঁকছিল  একটু ভেবে দেখলে , এটা পরিষ্কারভাবে বলা যায় ভারতবর্ষের ওই সময়ের যে দীর্ঘদিন যাবত চলে আসা চিত্রকলার একঘেঁয়ে অধ্যায় চলছিল তা ভেঙে বেরিয়ে আসার প্রথম প্রচেষ্টা রবীন্দ্রনাথ নিজেই দেখিয়েছিলেন। হয়ত তাই রবীন্দ্রনাথ  রামকিঙ্কর বেজ- এর প্রথা ভাঙাকে সম্পূর্ণ সমর্থন করে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।" 

রবীন্দ্রনাথের ছবিকে নিয়ে তরুণ প্রজন্ম কী ভাবছে, এটা জানার ইচ্ছে থেকে রাজ্যের উজ্জ্বল চিত্রশিল্পী পুষ্পল দেবের কাছে রবীন্দ্রনাথের ছবির আকর্ষণের প্রধান বিষয় জানতে চাইলে, তিনি জানান -- " ছবিতে কবির গাঢ় রঙের ব্যবহার আমাকে অবাক করে। বিশেষ করে কালো রঙের বলিষ্ঠ ব্যবহার। " একই কথার আভাস পাই তরুণ চিত্রশিল্পী জয়ন্ত দেব-এর  মতামত থেকে।  তিনি বলেন -- "আলো আঁধারের মেশানো একটা মনোক্রমটিক ব্যবহার, গাঢ় কালো রঙের পাশাপাশি উজ্জ্বল লাল,কমলা রঙের কনট্রাস্ট, আবার কোথাও কোথাও কনট্রাস্টটা মনেই হচ্ছে না, মনে হচ্ছে কালো সাথে মিশে একটা হারমোনি সৃষ্টি করেছে, যেটা ঐ-সময়ের অন্যান্য শিল্পীর কাছের সাথে তুলনা করলে, অবাকই হতে হয়। তিনি তাঁর আঁকায় একটা নিজস্ব ঘোরানা তৈরি করতে পেরেছিলেন। "  আবার তরুণ চিত্র শিল্পী উমা মজুমদার বলেন-- " তাঁর ছবিতে  সরাসরি রঙ চাপিয়ে কাজ করার বিষয়টা আমাকে খুব ভাবায়। তাছাড়া তাঁর লাইনিং এবং চিত্রপটে স্পেসের ব্যবহার আমাকে বরাবরই মুগ্ধ করেছে। । "

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের একথা মনে করা ঠিক হবে না যে রবীন্দ্রনাথের জীবনের শেষ ১০ ১৫ বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি তাঁর চিত্রশিল্প। আমরা দেখতে পাই সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথের বেশ কয়েকটি শ্রেষ্ঠ রচনা এই পর্যায়েই সৃষ্টি হয়, যেমন -- পূরবী, মহুয়া, আরোগ্য, শেষলেখা প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থের মধ্যে তার গভীর জীবনবোধ লক্ষ্য করা যায়। "সভ্যতার সংকট প্রবন্ধটিও  তিনি এই সময়ে লেখেন। রবীন্দ্রনাথকে সমর্থ ভাবে বুঝতে হলে, তার রচনাশৈলীর পাশাপাশি,  চিত্রের আনন্দ লাভ করতে হলে, যা সর্বাগ্রে প্রয়োজন তা হলো --তাকে পরিপূর্ণভাবে জানা, তার সমগ্রতাকে যতদূর সম্ভব বুঝার চেষ্টা করা। একমাত্র তাহলেই তার সাহিত্যদর্শন, জীবনদর্শনের পাশাপাশি তাঁর  চিত্রশিল্পের দর্শনকেও আমরা ভালোভাবে বুঝতে পারবো।  


No comments:

Post a Comment

অরণ্যের নির্জনতা, ধান ক্ষেতে রঙীন শোভা, মাদলের শব্দ এর মধ্যেই আমি এখনও ডুবে আছি' ‎

  'অরণ্যের নির্জনতা, ধান ক্ষেতে রঙীন শোভা, মাদলের শব্দ এর মধ্যেই আমি এখনও ডুবে আছি' ‎ ‎সত্তর দশকের উন্মাদনায় এক ভিন্ন উচ্চারণ-ভঙ্গ...