ঢিল
ছোটবেলায় কাচ ভাঙতাম - ঝন্ ঝন্ শব্দে
এখন ভাঙি- অভিমান,
অগোছালো ভাবনায় রাত ভিজে আজও ।
সে রাত-কে দু'হাতে নিংড়ে আমি হা-হুতাশহীন
এগোই বাহ্যতঃ সকালের দিকে ।
তবু, কান্নার একটা ছাপ থেকে যায় হুইলচেয়ারটায়
আমাকে একটা ঢিল দাও
ভাঙি কিছু ভাঙা জিনিস ।
দারিদ্রবিলাস
ভাঙা দেওয়াল -
আরও একটু ভেঙে দিয়ে
দেখছি চাঁদ ।
একটা দৌঁড় ডালপালাহীন
রেল ব্রীজের মাঝপথে আমি একা এগিয়ে চলেছি ।
হঠাৎ ট্রেনের শব্দ
আমি দিশেহার, দিলাম দৌঁড় - মস্ত দৌঁড়
তারপর কি হল জানি না -
একটা বৃত্ত তৈরী হতে দেখেছি শুধু
বৃত্তের ভিতরে দৌঁড় - দৌঁড়ের ভিতরে আরেকটা দৌঁড় ।
আমাদের উঠোনের যে পৃথিবী
তার দৌঁড় এরকমই শুরু হয় - ডালপালাহীন ।
খেলা
দূরে যেতে যেতে - চলে এসেছি
পায়ের কাছাকাছি ।
জীবনের সব সম্পদ এখানেই ফেলে গিয়েছিলাম ।
পলাতক
তমাল ! তমাল !
কোথাও কোনো সাড়া-শব্দ নেই
আধঘুমে পড়ে আছে চালচুলোহীন ভাবনার সংসার
আর কতবার বাস্তুভিটায় জল ঢেলে নদী ডিঙোবো ।
'তা বলে তোর নিজের ডাকে'ও সাড়া দিবিনে'
'কেন দেবো!'
এবার নিজেকে উল্টে-পাল্টে পাথরের মত বিলিয়ে দেবো -
গড়িয়ে পড়া পাথরের কোনো দুঃখবোধ থাকে না ।
স্বপ্ন
কোনো কোনো দুঃখকে বেড়ালের মতো
সারাক্ষণ পুষে রাখতে ইচ্ছে করে ।
এভাবেই প্রেমে পড়ে যাই কোনো কোনো দুঃস্বপ্নের ।
রেললাইনে জন্ম কিংবা মৃত্যু
রেললাইনে আমরা কয়েকজন
একটা গন্তব্য ছিল -
বাতিল করে দিয়েছি।
বাড়ি ছিল -
ফিরবো না ভাবছি ।
রেল আকঁড়ে পাথর
রেল আকঁড়ে মানুষ ।
লালপতাকা বুকে -
জীবনের মাঝপথে কয়েকটা বিবস্ত্র দুপুর ।
কথা
কে জানতো - এত দীর্ঘ ঘরের ভিতর
শুধুমাত্র একটি কথার এত দীর্ঘ ব্যথা ।
ধুনকর
আমার কোনো কম্বল নেই
শীতে আমি আমাকেই জড়াই ।
শরীর নিয়ে ঢুকে পড়ি শরীরে ।
একটা অন্ধকার উড়ে উড়ে ক্রমেই পাখির মতো
ঘুমাতে শুরু করে ।
ভ্রমণ
আমি হেঁটে যাই -
উড়ে যায় ধুলো - ছলাৎছল ।
আমি ছাদ থেকে পড়ে যাই - ছলাৎছল ।
আমি নিজের কাছে পড়ে যাই মশারি ছিঁড়ে -
নিঃশব্দে ভেসে যায় - ছলাৎছল
# এ ভালো লাগে না
আমি আমার যন্ত্রণার সবটুকু তোমার হাতে
তুলে দিতে পারি -
যদি তুমি সারা শহর ঘুরে খেলা দেখাতে পারো ।
আমি আমার লজ্জার সবটুকু তোমাকে দিতে পারি
যদি তুমি ঘাতক পুরুষের সামনে মেলে ধরতে পারো ।
যদি পারো - দুঃখ দাও
যদি পারো - কষ্টের কথা বল
আজকাল কেউ কারও কষ্ট নিয়ে কথা বলে না ।
নিশ্চুপ ভালোবাসার পথ চেয়ে বসতে পারে না - একটা জীবন ।
ভালো লাগে না ।
সবাই বসে থাকে -
কেউ কারও অস্ত্র বের করে না ।
এ-কেমন কথা !
ভালো লাগে না ।
# দীপঙ্কর
এত কথা বলার পর - কথা বলতে ইচ্ছে করে না ।
কী এত কথা তোর ! কথার মতো হাঁটি ।
একদিন অন্ধকার -
একদিন ব্রীজের তলা -
একদিন দূরের ঐ আমগাছ -
মাঝে মাঝে উল্টে ফেলি সব, তোর দাড়ি, আমার গোঁফ,
যুক্তি, পদবি, কেমন দেখাত তোকে -
ফালতু এ-বিষয় নিয়ে তর্ক দীর্ঘক্ষণ ।
এতটা নিশ্চিন্ত সময় এখন নয় ।
মনিষ বিয়ে করেছে - জানিস্ তো? ভেবেছিল সুখী হবে ।
মিনু তোকে লাথি দেবে, জানতাম ।
তোর দরজায় টোকা দিয়েছিলাম রাত্রির নির্জনতায় -
বিনিময়ে ঝাঁকুনি তিনবার ।
এই বুঝি ভালোবাসা!
মণিকা-কে বলিস্, বিয়ের তারিখটা যেন আরেকবার পিছিয়ে নেয় ।
নিছক অন্ধকারে ঘুমিয়ে থাকা ছাড়া সব অর্থহীন ।
# ঘড়ি
একটি ঘড়ির ভিতর শুয়ে পড়েছি, দু-হাত ছড়িয়ে দিয়েছি সোজা ও সমান্তরাল ।
সুদীপ্তা বলেছিল ঢং পাল্টা । অমল, বিমল, কমল
তিনটে নাম হলে কোনো বাধা ছিল না । আজ তারা আরও কিছু ।
কী নিয়ে কবিতা লিখবো ?
এ- প্রশ্নের সামনে নিরুত্তর, কেবল পিপীলিকার কথায় চলে যাই ।
ঘড়ির কাঁটার মতো হেঁটে যাই ততদূর ...,
তারপর সে ও আমি, অভিযোগের আড়ালে এক পলক,
দু-দণ্ড দাঁড়াবার দাবি নিয়ে শ্যামলী এসেছিল । কেউ কারও কষ্ট বোঝেনি ।
এসব বিরুদ্ধ কথার সামনে দাঁড়ালে, অপ্রাপ্ত প্রেমিকার মতো
বিব্রত দেহদান ছাড়া অন্যথা থাকে না । অথচ এমন কথা ছিল না ।
সুদীপ্তা, আজকাল তুই কোনো খবরই রাখিস্ না ।
চারিদিকের শূন্যতা-কে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিলে,
মাটিতে ঝরে পড়ে ফুল
No comments:
Post a Comment