Sunday, April 23, 2023

শঙ্খলাগা মুহূর্ত ( প্রথম কাব্যগ্রন্থ )

 ঢিল

ছোটবেলায় কাচ ভাঙতাম - ঝন্ ঝন্ শব্দে

এখন ভাঙি- অভিমান,

অগোছালো ভাবনায় রাত ভিজে আজও ।

সে রাত-কে দু'হাতে নিংড়ে আমি হা-হুতাশহীন
এগোই বাহ্যতঃ সকালের দিকে ।
তবু, কান্নার একটা ছাপ থেকে যায় হুইলচেয়ারটায়

আমাকে একটা ঢিল দাও
ভাঙি কিছু ভাঙা জিনিস ।

দারিদ্রবিলাস

ভাঙা দেওয়াল -
                আরও একটু ভেঙে দিয়ে 
                                          দেখছি চাঁদ ।



একটা দৌঁড় ডালপালাহীন

রেল ব্রীজের মাঝপথে আমি একা এগিয়ে চলেছি ।
হঠাৎ ট্রেনের শব্দ 
আমি দিশেহার, দিলাম দৌঁড় - মস্ত দৌঁড়
তারপর কি হল জানি না -
একটা বৃত্ত তৈরী হতে দেখেছি শুধু
বৃত্তের ভিতরে দৌঁড় - দৌঁড়ের ভিতরে আরেকটা দৌঁড় ।

আমাদের উঠোনের যে পৃথিবী
তার দৌঁড় এরকমই শুরু হয় - ডালপালাহীন । 


খেলা 

দূরে যেতে যেতে - চলে এসেছি
পায়ের কাছাকাছি ।

জীবনের সব সম্পদ এখানেই ফেলে গিয়েছিলাম । 


পলাতক

তমাল ! তমাল !  
কোথাও কোনো সাড়া-শব্দ নেই
আধঘুমে পড়ে আছে চালচুলোহীন ভাবনার সংসার 
আর কতবার বাস্তুভিটায় জল ঢেলে নদী ডিঙোবো ।
'তা বলে তোর নিজের ডাকে'ও সাড়া দিবিনে'
'কেন দেবো!'
এবার নিজেকে উল্টে-পাল্টে পাথরের মত বিলিয়ে দেবো -
গড়িয়ে পড়া পাথরের কোনো দুঃখবোধ থাকে না ।


স্বপ্ন

কোনো কোনো দুঃখকে বেড়ালের মতো
সারাক্ষণ পুষে রাখতে ইচ্ছে করে ।

এভাবেই প্রেমে পড়ে যাই কোনো কোনো দুঃস্বপ্নের । 


রেললাইনে জন্ম কিংবা মৃত্যু

রেললাইনে আমরা কয়েকজন 
একটা গন্তব্য ছিল -
                    বাতিল করে দিয়েছি।
বাড়ি ছিল - 
                    ফিরবো না ভাবছি ।
রেল আকঁড়ে পাথর
রেল আকঁড়ে  মানুষ ।
লালপতাকা বুকে -
জীবনের মাঝপথে কয়েকটা বিবস্ত্র দুপুর ।  


কথা 

কে জানতো - এত দীর্ঘ ঘরের ভিতর 
শুধুমাত্র একটি কথার এত দীর্ঘ ব্যথা । 


ধুনকর

আমার কোনো কম্বল নেই 
শীতে আমি আমাকেই জড়াই ।
শরীর নিয়ে ঢুকে পড়ি শরীরে ।

একটা অন্ধকার উড়ে উড়ে ক্রমেই পাখির মতো 
ঘুমাতে শুরু করে । 


ভ্রমণ  

আমি হেঁটে যাই - 
উড়ে যায় ধুলো - ছলাৎছল ।
আমি ছাদ থেকে পড়ে যাই - ছলাৎছল ।
আমি নিজের কাছে পড়ে যাই মশারি ছিঁড়ে - 
নিঃশব্দে ভেসে যায় - ছলাৎছল


# এ ভালো লাগে না 

আমি আমার যন্ত্রণার সবটুকু তোমার হাতে 
তুলে দিতে পারি -
যদি তুমি সারা শহর ঘুরে খেলা দেখাতে পারো ।
আমি আমার লজ্জার সবটুকু তোমাকে দিতে পারি 
যদি তুমি ঘাতক পুরুষের সামনে মেলে ধরতে পারো । 

যদি পারো - দুঃখ দাও 
যদি পারো - কষ্টের কথা  বল 
আজকাল কেউ কারও কষ্ট নিয়ে কথা বলে না । 

নিশ্চুপ ভালোবাসার পথ চেয়ে বসতে পারে না - একটা জীবন ।
ভালো লাগে না ।
সবাই বসে থাকে -
কেউ কারও অস্ত্র বের করে না ।
এ-কেমন কথা !
ভালো লাগে না ।
 

# দীপঙ্কর

এত কথা বলার পর - কথা বলতে ইচ্ছে করে না । 
কী এত কথা তোর ! কথার মতো হাঁটি ।

একদিন অন্ধকার - 
একদিন ব্রীজের তলা - 
একদিন দূরের ঐ আমগাছ - 
মাঝে মাঝে উল্টে ফেলি সব, তোর দাড়ি, আমার গোঁফ,
যুক্তি, পদবি, কেমন দেখাত তোকে -
ফালতু এ-বিষয় নিয়ে তর্ক দীর্ঘক্ষণ ।

এতটা নিশ্চিন্ত সময় এখন নয় । 
মনিষ বিয়ে করেছে - জানিস্ তো? ভেবেছিল  সুখী হবে ।
মিনু তোকে লাথি দেবে, জানতাম । 
তোর দরজায় টোকা দিয়েছিলাম রাত্রির নির্জনতায় -
বিনিময়ে ঝাঁকুনি তিনবার । 
এই বুঝি ভালোবাসা!

মণিকা-কে বলিস্, বিয়ের তারিখটা যেন আরেকবার পিছিয়ে নেয় ।
নিছক অন্ধকারে ঘুমিয়ে থাকা ছাড়া সব অর্থহীন ।  

# ঘড়ি  

একটি ঘড়ির ভিতর শুয়ে পড়েছি, দু-হাত ছড়িয়ে দিয়েছি সোজা ও সমান্তরাল । 
সুদীপ্তা বলেছিল ঢং পাল্টা । অমল, বিমল, কমল
তিনটে নাম হলে কোনো বাধা ছিল না । আজ তারা আরও কিছু ।
কী নিয়ে কবিতা লিখবো ? 
এ- প্রশ্নের সামনে নিরুত্তর, কেবল পিপীলিকার কথায় চলে যাই ।
ঘড়ির কাঁটার মতো হেঁটে যাই ততদূর ...,
তারপর সে ও আমি, অভিযোগের আড়ালে এক পলক, 
দু-দণ্ড দাঁড়াবার দাবি নিয়ে শ্যামলী এসেছিল । কেউ কারও কষ্ট বোঝেনি । 

এসব বিরুদ্ধ কথার সামনে দাঁড়ালে, অপ্রাপ্ত প্রেমিকার মতো 
বিব্রত দেহদান ছাড়া অন্যথা থাকে না । অথচ এমন কথা ছিল না ।

সুদীপ্তা, আজকাল তুই কোনো খবরই রাখিস্ না ।
চারিদিকের শূন্যতা-কে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিলে, 
মাটিতে ঝরে পড়ে ফুল  

No comments:

Post a Comment

অরণ্যের নির্জনতা, ধান ক্ষেতে রঙীন শোভা, মাদলের শব্দ এর মধ্যেই আমি এখনও ডুবে আছি' ‎

  'অরণ্যের নির্জনতা, ধান ক্ষেতে রঙীন শোভা, মাদলের শব্দ এর মধ্যেই আমি এখনও ডুবে আছি' ‎ ‎সত্তর দশকের উন্মাদনায় এক ভিন্ন উচ্চারণ-ভঙ্গ...