** আমাদের জন্য বৃথা সব প্রগতির লাইন **
কালো টাকা-সাদা টাকা সব, সব প্রশ্নই এখন তুচ্ছ ।
আমি যদি ভালো থাকতে না-পারি,
তবে তো সবই বড় তুচ্ছ হয়ে যায় ।
আমি আমার দুঃখের কাছে ঘুরেফিরে অসহায় হয়ে
পড়ি ।
যে ভালোবাসার ক্ষণের জন্য সারাদিন এত ছটফট
যত মান-অভিমান
যতসব আচার- আচারণ !
কোথায় সেই প্রেম ! সেই ক্ষণ !
যে-ক্ষণের সামনে দেহঅসহায়
হয়ে পড়ে ।
দুধ-তেল মাখানো শিবলিঙ্গের মসৃণ ত্বকের দিকে
তাকিয়ে রয়েছে ক্ষুধার্ত ছেলেটি ।
তাকে আড়ালে রেখে আমি সুন্দরী মেয়েটির জলঢালার দৃশ্যটি ফটোশুট করেছি ।
কোমরের যে জায়গাটা নদীর মতো মোড় নিয়েছে, সেখানটার
ব্রাইটনেসটা
একটু বাড়িয়ে দিয়েছি ।
গালে লেগে রয়েছে কয়েকফোঁটা জলবিন্দু ।
মনের ভিতরে তবু উঁকি মারছিল ক্ষুধার্ত ছেলেটির মর্মাহত মুখ !
তারপরও নেক্সট ফটোশুটের বিষয় নির্বাচনে ব্যস্ত হয়ে পড়ি ।
পুজো শেষে রাস্তার মোড়ে লক্ষ্মীর মূর্তি জেগে আছে একা । ভঙ্গুর ।
“বেটি
বাঁচাও ! বেটি পড়াও” – এই সব স্লোগানের সামনে এইসব চিত্রকল্প
দেখে বড় অসহায় লাগে ।
মোমবাতি গলছে অন্ধকারে । নীরবে । একা ।
দ্রুত একে একে পার হয়ে যাচ্ছে স্টেশন,
স্টেশনের নাম ।
ঘুমন্ত মানুষের ঢল ।
কোনো স্টেশনের নামই পড়তে ইচ্ছে করছে না ।
ভাত রাঁধতে গিয়ে মায়ের মতো আজও এক মুঠো
চাল সরিয়ে রেখেছি ।
এভাবে কত অপমান, কত ভালোবাসা, কত অনীহা-
বঞ্চনা, আগলে রেখেছি শিকে তোলে !
তোমার সাথে হাত মেলাবো বলে যে হাত বাড়িয়ে
ছিলাম,
তোমার হাতের অপেক্ষায় যে হাত বারহিয়েছিলাম ।
সে
হাত এখনও শূন্যে ঝুলছে।
রাতের নীরবতা শেষে শিউলিফুল ঝরছে ভোরের
কুয়াশায় ।
শিশিরে সিক্ত হচ্ছে ঘাস ।
পাখিদের কলতানে জেগে উঠছে গাছ
তারপরই পাল্টে যায় পরবর্তী প্রেক্ষাপট
একের পর এক মিছিল ছুটে যায় রাজপথ জুড়ে ।
সামনে নির্বাচন ।
কংগ্রেস স্লোগান তুলছে –
পেট ভরে খাবো, একশোদিন কাজ করবো !
চরমপন্থা
নয়, তারুণ্যের শক্তি ।
কথা কম কাজই বলে দেয় সব ।
বিজেপি স্লোগান তুলছে – কংগ্রেস হটাও, দেশ
বাঁচাও ।
আমরা
চাই বিকাশ, তারা চায় মোদীর বিনাশ
আবার দরকার মোদী সরকার ।
সিপিএম স্লোগান তুলছে – চোর ধরো, জেল ভরো ।
হাল ফেরাও। লাল
ফেরাও ।
আমার মতো কয়েকজন যুবক এসব কথায় খুব বিরক্ত হতে দেখছি।
মিছিল ফেরত সবাই হতাশ হয়ে যে যার বাড়ি
ফিরে ঘুমোতে যায় ।
রৌদ্র বাড়ে ।
ভাতের নেশা বাড়ে ।
শ্রাবণীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম –
‘জীবনে শেষতম চুম্বন তুমি কাকে দিতে চাইবে
?’
না, সে কোনো উত্তর দেয়নি ।
যাবতীয় আঘাতে শীতল হয়ে যাচ্ছে মন ।
পরম এক শীতলতায় ঝিমিয়ে পড়ছে দেহ
জীবনের লাইটহাউসটা আলেয়ার মতো ক্রমশ দূরে
গহীন অরণ্যের দিকে সরে যাচ্ছে ।
রান্নাঘরের জানলা দিয়ে পূর্ণিমার আলো ঢুকে
বেড়ালের পাশে ঘুমিয়ে পড়েছে ।
আজকাল খবরের কোনো চ্যানেলই দেখি না ।
একের পর এক বিজ্ঞাপন ঢেকে ফেলেছে যাবতীয়
সত্য খবর ।
মাষ্টারমশাই আপনি কী দেখেননি কিচ্ছু ?
মুখে বিড়বিড় করে বললেন – ‘সব ঝুট হ্যায় !’
কি ঝুট ? সে সত্য আর বলে গেলেন না ! তার আগেই বদলি হলেন দুর্গম বনাঞ্চলে ।
শীতের অলস রোদ পড়েছে কচি ব্লাউজের ডগায়
অসহায় অনাথ মেয়েটি জানে ব্রথেল ছাড়া আজও তার
যাওয়ার সহজ কোনো রাস্তা নেই ।
পৃথিবী কত পাল্টে গেছে । পাল্টে যায় । পাল্টে পাল্টে যায় ।
কেবল শরীর নিয়ে টানাটানি থেকে যায় নদীর মতো বহমান ।
যোনিকেশের চারপাশে পড়ে রয়েছে অবহেলিত
চুম্বন, কয়েকটা অশ্লীল শব্দ
আর প্রভাবশালী কিছু নেতাটাইপ কর্মীর
আস্ফালন ।
জানুয়ারি মাসেই ছেড়েছিল স্বামীর ঘর ।
নয় জন বয়ফ্রেন্ড নিয়ে বেশ চলছিল । হঠাৎ
খুন ।
সেক্স আর নেশার জন্য পাগল ছিল অপর্ণা ।
স্বামী কন্যা রেখে পালিয়ে গিয়ে খুন ।
দেহ পড়েছিল শহরের মাঝামাঝি ড্রেনের
ভিতরে ।
আজকের কাগজের খবর। উপাদেয় ।
বাজারের ব্যাগ নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে, খালি
ব্যাগ নিয়েই বাড়ি ফিরে আসি ।
এত হতাশার পর ভায়েগ্রা নির্ভর রাত্রিযাপন এখন মন্দ লাগে না !
এছাড়া আর কিই-বা করার আছে আমার !
নাভির
চারপাশে গভীর খাদ, খাদের চারপাশে রাত্রির নগ্নতা ।
নগ্নতার চারপাশে কথা বন্ধ হয়ে যায় ক্ষীণ
উচ্চারণে ।
নিভে যাওয়া উনুনের ত্রিকোণে কবোষ্ণ উষ্ণতা,
আমার মুখ তুলতে ইচ্ছে করে না ।
আরেকটা সকালের মুখোমুখি হতে আজকাল আর সাহস
পাই না ।
আমার মুখ তুলতে ইচ্ছে করে না ।
একটা অদৃশ্য ঢেউ আসে স্মৃতির পেছন পেছন। ঢেউয়ের শরীরে ব্লেড ।
বাইরে জগত যতটা রঙিন, ভেতরে ভেতরে ততটাই ছিন্নভিন্ন
অন্ধকার ।
মৃত সন্তানের শার্ট আগলে রেখে পড়ে আছে বছরের
পর বছর যে মা,
এমন মাকে আমি খুব কাছে থেকে দেখেছি।
এমন বাবাকে আমি নির্বাক চেয়ে থাকতে দেখেছি
।
আমাকে আজকাল আর কোনো রাজপথ টানে না ।
কোনো কিছুই আর টানে না আমাকে ।
কেবল ক্ষিধে সহ্য হয় না । তিতা লালা মুখের ভিতর ।
কীভাবে বিষদাঁত মেলে ধরতে হয়, তা আজও শিখে
উঠতে পারলাম না ।
বৃথা সব পাঠশালা । ঘামেভেজা স্কুলড্রেস ।
কী শখ করে লাস্ট বেঞ্চে লিখেছিলাম লাবণীর
নাম ।
আজ সব বৃথা । বৃথা পাঠশালা ।
আমাদের জন্য বৃথা সব প্রগতির লাইন ।
২।
**আই কান্ট
ব্রিথ **
আই কান্ট ব্রিথ।
আমি নিঃশ্বাস
নিতে পারছি না।
এখন আর আমি
ইচ্ছে করলেই কাউকে কুত্তার বাচ্চা গালি দিতে পারি না ।
কিংবা শুয়োর কি
আওলাদ !
কিংবা গলা
ধাক্কা –
কিংবা গালে
সজোরে একটা চড় ।
যদি
পারতাম,নিজের গায়েই প্রথম লাথিটা মারতাম ।
শিশ্নের ভিতর
থেকে নির্মমভাবে টেনে টেনে সব বীর্য মাটিতে ফেলে দিতাম ।
এমন বীর্য দিয়ে
কী করবো, যদি সত্যি কথাটাই বলতে না–পারি ?
ইতিহাসের সব
বীরত্ব গাঁথা মুখস্থ করে কী করবো, যদি কিছু শিখতেই না- পারি ?
মলাটে মলাটে
ঢেকে দিতে ইচ্ছে করে নিজেরই মুখমণ্ডল ।
‘আই কান্ট
ব্রিথ’ । আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।
এমন সংবিধান
দিয়ে কী করবো –
যদি শীর্ষ
আদালতে যাওয়ার ভাড়াই না-থাকে ছিঁড়া পকেটে !
এমন গীতায় হাত
দিয়ে শপথ করার মানেই বা কী, যদি দামি উকিল দিয়ে অনায়াসে
একের পর এক
মিথ্যে বলাতে পারি।
এমন জেলা
প্রশাসক দিয়ে করবোটাই বা কী, যদি তার কক্ষে ঢুকতেই না-পারি।
এমন এমন রাষ্ট্রপ্রধান দিয়েই বা কী করবো, যদি তিনি কথা
দিয়ে কথা রাখতে না-পারেন।
প্রতিশ্রুতি
ভঙ্গকারি নেতার সামনে হাত জোড় করে কী লাভ?
এমন বান্ধবী
দিয়েই বা কী করবো, যে কিনা আমার অনুপস্থিতে অন্য কাউকে শরীর দিয়ে বসে ।
কিংবা এমন
প্রেমিক ?
‘আই কান্ট
ব্রিথ’ ।
‘আই কান্ট
ব্রিথ’ ।
আমি নিঃশ্বাস
নিতে পারছি না।
কাউকে বাসটার্ড
বলার সাহস আমার নেই ।
কাউকে গর্দভ
বলার স্পর্ধাও আমার নেই।
ভালোবাসবো, সে সাহসই বা কই!
ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে
নেবো সে সাহসই বা কই ?
বড় জোর রিফিউজির
মতো মাথা তুলতে তুলতে নুইয়ে ফেলতে পারি ।
বড় জোর
তোমার শুট পলিটিক্সের সামনে সব বুঝেও চুপ
করে থাকতে পারি।
বড় জোর
তোমার সামনে পতাকা তুলে ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে
পারি গাধার বাচ্চার মতো ।
বড় জোর ... বড়
জোর ... থাক !
‘আই কান্ট
ব্রিথ’।
আমি নিঃশ্বাস
নিতে পারছি না।
এই মুহূর্তে আমি
তোমাকে চুম্বন দিতে পারছি না?
আমি নেভাতে
পারছি না ঘরের বাতি ।
আশ্চর্যজনকভাবে
আমি ছুঁতে পারছি না আমার সন্তানের ঘুমন্ত শরীর।
কোথায় যেন
নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হচ্ছে ।
কোথায় যেন
নিজেকে বড় অসহায় লাগছে ।
মনে হচ্ছে আমিই
যেন সব কিছুর জন্য দায়ি !
হ্যাঁ আমি !
‘আই কান্ট
ব্রিথ’
আমি নিঃশ্বাস
নিতে পারছি না ।
বিশ্বাস করুণ,
সত্যিই আমি শ্বাস নিতে পারছি না !
আমার গলায় কার
যেন একশো মণ ওজনের পায়ের চাপ
অক্সিজেন
শূন্যতায় ভুগছে আমার বায়বীয় শরীর
চেতনার অন্ধকারে
সব কী রকম খাঁ খাঁ করছে
আমার চোখের
সামনে কী- রকম একটা অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে ।
মাটিতে পড়ে
যাবার আগে আমি আপ্রাণ
এক হাসপাতাল
থেকে আরেক হাসপাতালের দিকে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করছি দ্রুত। অতি দ্রুত ।
পথ একের পর এক
নিথর দেহ হেলে রয়েছে,
অক্সিজেন সিলিন্ডার
আঁকড়ে মৃতপ্রায় স্বামীর পাশে বিব্রত বসে রয়েছে স্ত্রী
অক্সিজেন
শূন্যতায় মাঝরাস্তায় কাৎরাচ্ছে প্রবীণ
কয়েকটি দেহ।
আমি ছুটছি ,
আমার একটু বাতাস চাই । অন্তত একবার একটু ...
‘আই কান্ট
ব্রিথ’
‘‘আই কান্ট
ব্রিথ’
আই কান্ট ব্রিথ’
আমি নিঃশ্বাস
নিতে পারছি না ।
বড়দা আমি বাঁচতে
চাই ।
ছোড়দা আমি
বাঁচতে চাই ।
মুখ্যমন্ত্রী
আমি বাঁচতে চাই ।
প্রধানমন্ত্রী
আমি বাঁচতে চাই ।
বুথপ্রধান আমি
বাঁচতে চাই ।
পৃষ্ঠাপ্রমুখ
আমি বাঁচতে চাই ।
কমরেড আমি
বাঁচতে চাই ।
লোকাল কমিটি আমি
বাঁচতে চাই !
আমি প্রাণভরে
একটু শ্বাস নিতে চাই ।
মানুষের মতো বেঁচে থাকার মতো এইটুকু শ্বাস !
আমি যে কুকুরের মতো মরে যাচ্ছি –
আমি
রাষ্ট্রহীনের মতো মরে যাচ্ছি -
‘আই কান্ট
ব্রিথ’
বিশ্বাস করুণ - আমি
নিঃশ্বাস নিতে পারছি না ।
আমি ভয় পাচ্ছি,
এক গালে চড় খেলে ভদ্রলোকেরা যেভাবে ভয় পায় ।
আমি ভয় পাচ্ছি, সত্য কথা বলতে ভদ্রলোকেরা যেভাবে ভয় পায় ।
আমি ভয় পাচ্ছি,
অসহায় বেশ্যামাগি পুলিশকে দেখলে যেভাবে ভয় পায় !
আমি ভয় পাচ্ছি, শাসককে দেখলে যেভাবে শোষকরা ভয় পায় ।
হ্যাঁ, আমি ভয় পাই !
আমি নিজের
ভিতরের অন্ধকারকে বড় বেশি ভয় পাই ।
আমি সদা সর্বদা ঠোঁটে
আঙুল দিয়ে রাখি ।
আমি কেবলই ভয় পাই -
আমি আমার বুকের ভিতরে মাথা ঢুকাতে পারি না।
গলার ভিতরে হাত
ঢুকাতে পারি না ।
গর্তের অন্ধকার
থেকে মাথা বের করে ফেলি দ্রুত।
অতিদ্রুত।
আমার নিঃশ্বাস
নিতে কষ্ট হচ্ছে।
আমার প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে ।
আমি চোখে দেখতে
পাচ্ছি না কিছু ।
আমার মাথার ভিতর
একরাশ শূন্যতা ।
আমার মাথার ভিতর
এক রাশ ভয় !
আই কান্ট ব্রিথ
কা ন্ট
ব্রি...থ্….
আজকাল
অম্বুলেন্সের শব্দ শোনলে আমার শ্বাসকষ্ট
আরও বেড়ে যায়।
আজকাল কোথাও
কান্নার শব্দ পেলে আমার শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যায়।
আজকাল পি পি
কিট্ পরা কোনো নার্সকে দেখলে আমার শ্বাসকষ্ট বেড়ে হয়ে যায়।
আজকাল কোনো
আমলার প্রেস ব্রীফিং দেখলে আমার প্রেসার বেড়ে যায় ।
টেবিল থাপ্পড়-মারা
নিউজরিপোর্টার দেখলে আমার প্রেসার বেড়ে যায় ।
হাই হয়ে যায়
ব্লাড পেসার ।
আমি আবার শ্বাস
নিতে পারি না ।
আই কান্ট ব্রিথ
আমি নিঃশ্বাস
নিতে পারছি না ।
কা ন্ট ব্রিথ ….
সিলেক্টিভ কিছু
মুখে চড় মারতে পারছি না বলে
ভিতরে ভিতরে খুব
অসুস্থবোধ করছি।
সিলেক্টিভ কিছু
মানুষকে খুন করতে পারছি না বলে, ভিতরে
ভিতরে অসুস্থ হয়ে পড়ছি।
কিছু নামধারী
সমাজসেবীদের রাস্তায় কান ধরে
উঠ-বস করাতে পারছি
না বলে আমি ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়ছি।
কিছু ভালোবাসার
মানুষকে জুতাপেটা করতে পারছি না বলে, শরীরটা
প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
আই কান্ট ব্রিথ
কা ন্ট ব্রিথ । কা..ন্ট…
হলুদ সাংবাদিকতা
দেখতে দেখতে বিষিয়ে উঠছে চোখ-বুক
হলুদ আইনের পাতা
উল্টাতে উল্টাতে বমি করে এসেছি এপর্যন্ত তিনবার ।
মুখ চাপা পড়েছে
বিশ্রীরকম মুখোশে
বিবেক কবেই
বিক্রি করে দিয়েছি মনুসংহিতার কাছে
মন্দিরের সাজানো
দানবাক্সে দলা দলা টাকা দেখলে সব লুট করে মাটিতে ফেলে দিতে ইচ্ছে করে ।
শালা আমি মরে
যাচ্ছি অক্সিজেনের অভাবে ।
শালা আমি আর
বেঁচে নেই মানুষের মতো !
লক ডাউনে পোঁদে
কটা লাথির পড়েছে দেখ চেয়ে !
আমি কিছুতেই
নিঃশ্বাস নিতে পারছি না এমন পরিস্থিতিতে ।
আই কান্ট ব্রিথ ।
আমি কী তবে মরে যাবো ?
ঘুরে ফিরে
বিকেলের মতো শ্রান্ত এক শূন্যতার কাছে এসে বসি
একটু বাতাসের
আশায় রাস্তার ভিখিরির সাথে কথা বলি
পাগলের সাথে
হেঁটে বেড়াতে ইচ্ছে করে রাতের পর রাত
একটা জুতো ছুঁড়ে
দিতে ইচ্ছে করে প্রতিটি কনভয়ের দিকে
লালাবাতি দেখলেই
তেড়ে যেতে ইচ্ছে বুনো ষাঁড়ের মতো
‘আই কান্ট ব্রিথ’
আমার গলায় কার
যেন চেপে ধরা জুতোর ছাপ !
ক্ষুধার জ্বালায় এক টুকরো পাওরুটি ছিনিয়ে আনতে চেয়েছিলাম ।
মাননীয় ক্ষমা করবেন!
আমাকে আমার নাগরিক অধিকার ফেরত দেন !
আমার স্কুলের
মুখস্থ পড়া আমাকে ফেরত দেন ।
দেয়ালে লেখা ছিল
কি যেন সব সংবিধানের প্রস্তাবনা !
আমি সব ভুলে যেতে চাই ।
আমাকে দয়া করে স্বেচ্ছামৃত্যুর
দিকে
এগিয়ে
যেতে
দেন।
অন্তত আমাকে মরার সেই অধিকারটুকু দিন !
আমি আর ঘুম
থেকে
জেগে
উঠতে
চাই
না
।
আমি আর ঘুম
থেকে
উঠে খবরের কাগজ
পড়তে
চাই
না
।
আমি আর কোনো
রাজনৈতিক
দলের
পতাকা
নিয়ে
সারাদিন বোকার
মতো
রোদে পোঁদ পোড়াতে চাই না ।
হাঁটতে চাই
না বোকা রাস্তার একের পর এক মোড়।
আমি নিশ্চিন্ত
একটি
মৃত্যুর
দিকে
এগিয়ে
যেতে
চাই
যে-মৃত্যুর
জন্য
অন্তত
আমি
আমাকে
দায়ি
করতে
পারবো!
এভাবে তিলে
তিলে
রাষ্ট্র-আত্ম-নিপীড়নের
ভিতর
দিয়ে
কেন
মরতে
যাবো
?
মরার আগে
অন্তত
একটা
লাথি
মেরে
যাবো
আমার
টার্গেটে।
সাজানো মঞ্চের
দিকে
একটা জুতা ছুঁড়ে
যাবো
নিদেন পক্ষে
একদলা
থুথু
!
এমন একটা
অপদার্থ
জীবন
নিয়ে
আমি
সত্যিই
নিরুপায়
‘আই কান্ট ব্রিথ’ ।
‘আই কান্ট
ব্রিথ’
‘‘আই কান্ট
ব্রিথ’
আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না ।
আমি সত্যিই
পারছি না ।
আমার সামনে রাখা সাদা ভাতের তাল মুহূর্তে কালো হয়ে যাচ্ছে
পাথর হয়ে পড়েছে
আমার শরীরের সমস্ত ধাতু
আমার জন্ম দেয়া
সন্তান পাথরের মতো হয়ে যাচ্ছে !
সে যদি আমাকে বড়
হয়ে প্রশ্ন করে – ‘এ-কোথায় আমাকে নিয়ে এলে বাবা ?’
আমি কী উত্তর
দেবো?
সে যদি বলে এমন
দেশে আমি জন্মাতে চাইনি বাবা ! তুমি কেন নিয়ে এলে আমাকে ?
আমি কী উত্তর দেবো
তখন ?
এই ভয়ে আমি চোখ
জড়ো করতে পারি না ।
এই ভয়ে আমি দাঁড়াতে পারি না ।
এই ভয়ে আমি
উলঙ্গ হতে পারি না ।
কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি শিহ্নহীনের মতো
।
বোবার মতো আমার
স্ত্রী তাকিয়ে থাকে আমার দিকে !
আমি কোনো কথা বলতে পারি না ।
উফ !
আমি যে আর পারছি
না ।
‘আই কান্ট
আই কান্ট ব্রিথ’
!
আমার দম বন্ধ
হয়ে আসছে ।
আমাকে কেউ একটু
নিঃশ্বাস আওলাদ দাও
আমাকে কেউ একটা
গাছের ছায়ার নিচে নিয়ে রাখো
আমাকে শকুন থেকে
একটু দূরে রাখো
আরও দূরে ...
আমি মরার আগে
মরতে চাই না ।
আমাকে
মরোনাস্ত্রের মতো কেউ না-হয় সংসদ ভবনের
সামনে ফেলে রেখে আসো ।
কিংবা স্ট্যাচু
অফ ইউনিটি-র সামনে ।
কিংবা স্ট্যাচু
অফ লিবার্টির সামনে ।
কিংবা কোনো
রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনে !
কিছু একটা
বার্তা রেখে যাই প্রজন্মের সামনে!
ন্যাংটো বালকটা
আমার দিকে তাকিয়ে আছে ।
আমি তাকে মুখ
দেখাতে পারছি না ।
আমি চোখ রাখতে
পারছি না তার চোখে ।
‘আই কান্ট
ব্রিথ’ ।
‘আই কান্ট ব্রিথ’
আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।
আমি পাগল হয়ে
যাচ্ছি ।
আমাকে কালো
পলিথিনে মোড়ে মুখোশ পরা
কে বা কারা যেন ফালতুর মতো ঢিল মেরে ফেলে দিচ্ছে
কালো গর্তের ভিতরে ।
দুঃখ শুধু একটাই
উলঙ্গ পা দুটো
দেখিয়ে যেতে পারলাম না রাষ্ট্রের
উদ্দেশ্যে
‘আই কান্ট
ব্রিথ’
আমি মানুষের মতো শেষ বার প্রাণ ভরে
নিঃশ্বাস নিতে পারলাম না !
না, পারলাম না ।
৩। ** থেমে থেমে মৃতদেহের নোনা গন্ধ ভেসে আসে **
থেমে থেমে বুকের ভিতর থেকে মৃতদেহের নোনা গন্ধ ভেসে আসছে ।
কেমন শ্বাসকষ্ট শ্বাসকষ্ট লাগছিল ।
থেমে থেমে শ্মশানের চুল্লীর তাপ এসে শরীরে
লাগছে ।
থেমে থেমে বেদনার কথাগুলো গায়ে কাঁটা দিচ্ছে
থেমে থেমে আমার হৃদয় গলে যাচ্ছে প্রচণ্ড বিতৃষ্ণায়
আমি কর্পোরেট হাউজের সামনে দাঁড়াবার মতো ভদ্দ মানুষ নই !
কর্পোরেট রেস্ট্রোরেন্টে বসে চা খাওয়ার
মতো ভদ্দ মানুষ নই !
আমাকে দেখে দারোয়ানও বুঝে ফেলে একে
গলাধাক্কা দেয়াই যায় !
আর তখনও আমি আমার বুকের ভিতর থেকে
থেমে থেমে মৃতদেহের নোনা গন্ধ ভেসে আসছে
টের পাই ।
মুখ্যমন্ত্রীর মস্তবড় সুদৃশ্য বাড়ির সামনে
দাঁড়ালেও একই অনুভূতি হয় আমার ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কোয়ার্টারের সামনে দাঁড়ালে
একই অনুভূতি হয় আমার
মশার উপদ্রবে একই
অনুভূতি হয় আমার পরিবেশমন্ত্রীর বাড়ির সামনে
দাঁড়ালে
শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনে দাঁড়ালে গোটা
বিষয়টার তীব্রতা যেন আকাশ ছুঁয়ে ফেলে
যেন কেমন শ্বাসকষ্ট শ্বাসকষ্ট লাগছিল আমার ।
একটু শ্বাসের
আশায় হাঁটতে হাঁটতে আমি মন্ত্রীবাড়ির ফটোগ্যালারির সামনে
দাঁড়ালাম –
সিপাহীজেলার দৃষ্টিনন্দন রাবার বাগান
দেখলাম , তরুবীথি দেখলাম
নীরমহলের শিল্প-সৌন্দর্যবোধের অক্ষয়
নিদর্শন দেখলাম ,
রুদ্র সাগরের অথৈ জল দেখলাম –
ঊনকোটির পাহাড়গাত্রের পাথরে খোদিত অসংখ্য
দেবদেবী দেখলাম –
ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির, মন্দির সংলগ্ন
কল্যাণদিঘির জল, মাছ কচ্ছপ দেখলাম –
ডম্বুরতীর্থের জলধারা দেখলাম ,
নারিকেলকুঞ্জ দেখলাম –
উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের শ্বেতশুভ্র ইমারত,
জোড়াদিঘি, পুষ্পোদ্যান দেখলাম –
জম্পুই-এর মেঘের ছায়ার সাথে ঝুলন্ত কমলার
সারি সারি গাছ দেখলাম –
লাঠি হাতে সেন্ট্রাল পুলিশ দেখলাম, তাদের
হাতে লোডেড রাইফেল দেখলাম,
তাক করা পিস্তল দেখলাম -
আমার বুকের ভিতর থেকে থেমে থেমে
আবার মৃতদেহের নোনা গন্ধ ভেসে আসছে টের
পেলাম ।
আমি কিছুতেই এই গন্ধ থেকে পালাতে পারছি না
।
আমি পুনরায় মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে
গিয়ে দাঁড়ালাম –
বেদনায় আমার বুক ভেঙে আসছিল
আশায় আমার বুক ভরে উঠেছিল !
ইস, আমি যদি
আমার আশা-আকাঙ্ক্ষা-বেদনাগুলো আমার শাসককে শোনাতে পারতাম !
এই তো গাড়ির বহর -
এই তো দারোয়ান –
এই সেবকের বাহক –
এই তো তিনি
...
না, ছুঁতে
পারিনি তাঁকে । এভাবে ছোঁয়া যায় না।
অন্তত
নির্বাচনের আগ পর্যন্ত
এটা ভেবেই আমার
আবার শ্বাসকষ্ট বাড়তে লাগলো ।
না, এটা আমার
শ্বাসকষ্টের কোনো কারণ হতে পারে না -
বিলকিস বানুর
আসামীরা এখন জেল থেকে মুক্ত ।
আমার
শ্বাসকষ্টের এটা কোনো কারণ হতে পারে না -
যখন দেখলাম
তাদের গলায় মালা পরানো হচ্ছে হেসে হেসে ।
এরপর থেকে আমি
অসুস্থবোধ করছি ।
এ-সবের সাথে
আমার অসুস্থতাবোধের কী এমন সম্পর্ক হতে পারে ?
অথচ আমি তারপর
থেকে অসুস্থবোধ করছি ।
আমার কেমন যেন
বমি বমি ভাব করছে ।
আমার মনে হচ্ছে
আমাকে কে যেন কী খাইয়ে দিয়েছে,আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ।
আমার দাদুকে
যেমন ১৯৪৯ সালে পাকিস্তানী দালালরা বর্ডার পার হবার আগে ধরে ফেলেছিল,
তার মুখে যেভাবে
ঠেসে ধরেছিল গো-মাংস! অনেকটা তেমনভাবে
।
আমি অসহায়ের মতো
তাকিয়ে থাকলাম দাদুর মতো ।
যেন থেমে থেমে বুকের ভিতর থেকে মৃতদেহের নোনা গন্ধ ভেসে আসছে ।
আমি দাদুর মতো
অসহায়তায় মৃত্যুভয়ে কাঁপতে লাগলাম ।
আমি দাদুর মতো অসহায়তায়
হাউমাউ করে চিৎকার করতে লাগলাম।
ত্রিশ হাজার
বীরাঙ্গনার মধ্যে আমার পিসিও ছিলেন পাকআর্মি ক্যাম্পের অন্ধকারে,
হয়ত আমার পিসিও
সেদিন বিলকিস বানুর মতো অসহায়,
রক্তাক্ত
হাত-পা ছুঁড়ছিলেন চারিদিকে ।
নির্ভয়ার
মতো হয়ত পিসিও অসহায়হাত-পা ছাড়াবার
চেষ্টা করতে
করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন।
সেই থেকে আমি
অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছি
আমার দাদুর মুখের দিকে –
পিসির মুখের
দিকে –
নির্ভয়ার মুখের
দিকে -
প্রিয়দর্শিনীর
মুখের দিকে -
বিলকিস বানুর
মুখের দিকে -
বিলকিস বানু
আমার বোন হলে আমি কী তাদের ক্ষমা করতে
পারতাম ?
বিলকিস বানুর
প্রদেশ থেকে আমার প্রদেশ অনেক দূরে, অনেক ।
তারপরও কী জানি
একটা অস্বস্তি করছে ।
আমার ঘুম আসছে
না । আমার কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না ।
যেন থেমে থেমে বুকের ভিতর থেকে মৃতদেহের নোনা গন্ধ ভেসে আসছে ।
মৃতদেহের নোনা গন্ধ ।
যেন কেউ একের পর
এক চিকেন রোস্ট করছে
আর ছুঁড়ে দেয়া
হচ্ছে টার্গেটেড কিছু মুখের দিকে ।
কিছু বুথের দিকে
–
কিছু কালো গলির
দিকে –
কিছু কালো
মুখোশের দিকে -
মনে হচ্ছে,
কেউ যেন জোর করে
টার্গেটেড কিছু স্লোগান
ঠেলে দিচ্ছে আমার
মুখে ।
‘তোমার ভাই,
আমার ভাই – মহান ভাই, মহান ভাই !’
‘বন্ধুগণ এযাবৎ
আমরা যা করেছি, আর কেউ কী করতে পেরেছিল ?’
জয় হিন্দ –
জয় বন্দেমাতরম্ –
জয় বাংলা –
ইনকিলাব
জিন্দাবাদ –
এবাবের লড়াই জোর
লড়াই !
এসব চিৎকার
শোনার পর থেকেই আমার বুকের ভিতরে ডুকরে ডুকরে
কেমন যেন
মৃতদেহের নোনা গন্ধ ভেসে আসছে ।
আমার বমি বমি
ভাব করছে ।
শ্মশানে জ্বলন্ত
চিতার পাশে দাঁড়ালে আমার যেমনটি করে ।
মুখোশ পরা লোকের
পাশে দাঁড়ালে আমার যেমনটি করে ।
দ্বিচারী নারীর
পাশে দাঁড়ালে যেমনটি করে ।
ভণ্ড নেতার পাশে
দাঁড়ালে আমার যেমনটি করে ।
ভণ্ড পূজারীর
সামনে দাঁড়ালে আমার যেমনটি করে ।
অথচ শ্বাসকষ্টের
জন্য এসব কোনো কারণ হতে পারে না ।
তারপরও হয়
।
তারপরও রাত হয় ।
তারপরও মধ্যরাত
হয় ।
তারপরও শিশ্ন
জেগে ওঠে ।
আমি অবাক হয়ে
আমার শিশ্নের দিকে তাকিয়ে থাকি ।
এত সাহস করে সে
দাঁড়ায় কী করে ?
তার কী কখনও
অঝোরে কান্না পায় না ।
তার তো কান্না
পাওয়ার কথা ছিল!
অন্তত ব্যথাতুর
হয়ে ঝিম মেরে থাকার কথা ছিল!
কিন্তু না, সে
বরাবরের মতোই জেগে উঠলো ।
আমিও প্রশ্রয়
দিলাম ।
প্রাণপণে এখন বমি
করতে চাই ।
বমি করলেই
যেন বেঁচে যাই ।
অন্ধকারে শরীরের
বীর্য শরীরের অন্ধকারেই ঢলে পড়ে ।
আমি তার নির্ভীক
পতনের দিকে তাকিয়ে থাকি ।
তাকিয়ে থাকতে
থাকতে অকাতরে ঘুমের ঘোরে অপরাধীর মতো ঘুমিয়ে পড়ি ।
সকাল হলে রাতে
যাদের গালি দিয়েছি, তাদেরই কোনো- না- কোনো
অফিসে ঘাড় নিচু করে অফিস করতে গেলাম ।
মাস শেষে তাদের
দেওয়া বেতন দিয়ে নিজের ছেলে-মেয়ে-বউয়ের মুখে ভাত তুলে দিই ।
তাদের টাকায়
নিজের গায়ে নিজেই শার্ট জড়াই ।
স্ত্রীকে দামি শাড়ি কিনে দিই ।
ছেলে- মেয়েকে
দামি স্কুলে পাঠাই ।
এই দালালির জন্য
মদ খেয়ে অচৈতণ্যের ঘোরে
নিজেকে কী কম
গালি দিই । কম কী চাবুক পেটাই ?
মহরমের মতো পিঠ
রক্তাক্ত করি প্রতিদিন।
এমন করতে করতেই
মেরুদণ্ড বাঁকা করে ফেলি
সম্পর্কের
বাহানায় ধর্ষণেই লিপ্ত হই প্রতিদিন ।
এসব কেউ দেখে না
। কাউকে দেখতে দিই না ।
স্ত্রীকে রমণে
ঠকাই, স্ত্রী টেরও পায় না ।
সারাদিন এত
কাপুরুষের মতো জীবনযাপনের পর
রমণে কী আর
স্বস্তি পাওয়া যায় ?
আসলে চাবুক
পেটাই নিজেকে ।
নিজের বিবেকের
কাছে প্রতিদিন অপরাধী হই ।
ঠাকুর ঘরে আসলে নিজের কাছেই ক্ষমা চেয়েছি প্রতিবার ।
ঠাকুরের বাহানায়
কান্নায় ভেঙে পড়েছি প্রতিবার নিজের কাছেই
।
আমি গর্দভ কিছু করতে পারিনি ।
যাদের বিরুদ্ধে
চরমঘৃণা, দুর্ভাগ্যবশতঃ
তাদেরই কোনো না
কোনো গোদামজাত চাল দিয়ে ভাত খাই
দেশের
ভালো-মন্দ বিচার করি তাদেরই কোনো না কোনো চ্যানেলের খবর দেখে
সিনেমা দেখি
তাদের দেয়া শর্তে !
এত কিছুর পর
মাথাটা দাঁড় করাই কী করে ?
দেহজুড়ে মৃতের নোনা গন্ধ ভাসে ।
জানি তারপরও কাল আবার সকাল হবে
কেউ না কেউ মশাল
হাতে নিশ্চয়ই জেগে উঠবে
No comments:
Post a Comment